শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ব্রিটিশ একটি সংবাদপত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগের বিচারে অংশ নিতে চলতি সপ্তাহে লন্ডনে ফিরছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি। দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ার বিরুদ্ধে চালিয়ে আসা আইনি লড়াইয়ে এটিই প্রিন্সের শেষ মামলা।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, লন্ডনের হাইকোর্টে সোমবার এই বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ নয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
এটি প্রিন্স হ্যারির আনা তৃতীয় ও চূড়ান্ত মামলা। বলা হয়, মিডিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনা তিনি নিজের ব্যক্তিগত মিশন হিসেবে দেখেন।
১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মা প্রিন্সেস ডায়ানা নিহত হন। পাপারাজ্জিদের এড়াতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মিডিয়াকে দায়ী করে আসছেন হ্যারি।
রাজা তৃতীয় চার্লসের কনিষ্ঠ পুত্র হ্যারি এই মামলা করেছেন আরও ছয়জন উচ্চপর্যায়ের অভিযোগকারীর সঙ্গে, যাদের মধ্যে রয়েছেন পপ সংগীত তারকা এলটন জন এবং ডেভিড ফার্নিশ।
এই সাতজন অভিযোগ করেছেন, ডেইলি মেইল ও মেইল অন সানডে পত্রিকার প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারস অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বা করিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গাড়ির ভেতরে গুপ্ত অডিও যন্ত্র বসাতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ।
এ ছাড়া তারা নাকি ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং ব্যক্তিগত ফোনালাপেও অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে।
তবে সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠীটি অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে এবং এগুলোকে ‘অশ্লীল’ ও ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
প্রারম্ভিক বক্তব্যের প্রথম তিন দিনের কিছু অংশে হ্যারির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আইনজীবীরা সাংবাদিকদের যে খসড়া বিচারসূচি দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি পুরো এক দিন সাক্ষ্য দেবেন।
পরের সপ্তাহে অভিনেত্রী এলিজাবেথ হারলি সাক্ষ্য দেবেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে এলটন জন ও ডেভিড ফার্নিশের। অভিযোগকারীদের তালিকায় অভিনেত্রী স্যাডি ফ্রস্টও রয়েছেন।
২০২৩ সালে মিরর গ্রুপ নিউজপেপারসের (এমজিএন) বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া প্রথম জ্যেষ্ঠ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন প্রিন্স হ্যারি।
এটি হবে তার জন্য যুক্তরাজ্যে এক বিরল সফর। ডিউক অব সাসেক্স নামে পরিচিত হ্যারি ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে স্ত্রী মেগানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তাদের দুই সন্তান নিয়ে তিনি থাকেন।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ সফরের সময় হ্যারি রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঘনিষ্ঠ পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেন।
তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই।
নতুন এই বিচারটি রুপার্ট মারডকের নিউজ গ্রুপ নিউজপেপারস (এনজিএন) এবং মিরর গ্রুপের বিরুদ্ধে আগের মামলাগুলোর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত বছর মারডকের ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড প্রকাশকের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছেন প্রিন্স হ্যারি।
দ্য সান ও বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকার প্রকাশক এনজিএন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হ্যারিকে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ’ দিতে সম্মত হয়। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করে নেয় যে, ফোন হ্যাকিংসহ বিভিন্ন উপায়ে হ্যারির ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ করা হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে এনজিএন প্রিন্স হ্যারি ও তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবনে ‘গুরুতর অনুপ্রবেশের’ জন্য ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা’ প্রার্থনা করে। এতে দ্য সান এবং নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিক ও তাদের নির্দেশে কাজ করা ব্যক্তিগত তদন্তকারীদের মাধ্যমে ফোন হ্যাকিং, নজরদারি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের কথা স্বীকার করা হয়।
মিরর গ্রুপের বিরুদ্ধে আরেক মামলায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের এক রায়ে বলা হয়, হ্যারি ফোন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। ওই মামলায় তাকে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ পাউন্ড (প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
মিডিয়া আইনজীবী মার্ক স্টিফেন্স এএফপিকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ মিডিয়ায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে এই শেষ মামলাটি মূলত ‘প্রেস স্বাধীনতা’ নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘প্রেস স্বাধীনতা অপরিহার্য, কিন্তু একই সঙ্গে অবৈধভাবে গুপ্তনজরদারির শিকার না হওয়ার স্বাধীনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না যে এই মামলা শুধু অতীতের গসিপ নিয়ে হবে। বরং এটি ভবিষ্যতে মিডিয়ার সার্বিক জবাবদিহি নিয়েই বেশি হবে।’