শিরোনাম

সিডনি, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারে হাঙরের আক্রমণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে সিডনির পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর ভক্লুজ এলাকার ‘শার্ক বিচ’ উপকূলে বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রের পানিতে ঝাপ দেওয়ার পর সে এই আক্রমণের শিকার হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নিউ সাউথ ওয়েলসের মেরিন এরিয়া পুলিশের কমান্ডার সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ ম্যাকনাল্টি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। আমাদের ধারণা, একটি বড় আকারের বুল শার্ক ছেলেটির নিম্নাঙ্গে আক্রমণ করে।’
তিনি আরও বলেন, ছেলেটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
পুলিশ জানায়, শিশুরা প্রায় ছয় মিটার উঁচু একটি পাথর থেকে পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছিল। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে হারবারের পানিতে মিঠা পানি মিশে তা ঘোলাটে হয়ে যায়, আর এই ঘোলাটে পানি হাঙরের আক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাকনাল্টি বলেন, ‘লবণাক্ত ও মিঠা পানির মিশ্রণ এবং পানিতে প্রচণ্ড লাফালাফি হয়তো ওই হাঙরের আক্রমণের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।’
তিনি আহত কিশোরের সাহসী বন্ধুদের প্রশংসা করেন।
পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কিশোরটির এই বন্ধুরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। পুলিশ কর্মকর্তারা অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে একটি নৌকায় তুলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঠেকানোর ব্যবস্থা করেন। পরে দ্রুত তাকে হারবার পেরিয়ে একটি জেটিতে নেওয়া হয়, যেখানে অ্যাম্বুলেন্সের প্যারামেডিকরা অপেক্ষা করছিলেন।
শিশুটিকে সিডনি চিলড্রেনস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা তার পাশে মধ্যে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৭৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮০টির বেশি হাঙরের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৫০টির বেশি ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে বলে তথ্য ভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ার ফলে হাঙরের চলাচলের ধরণ বদলাচ্ছে, যা হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে সিডনির উত্তরের একটি জনপ্রিয় সৈকতে গ্রেট হোয়াইট শার্কের হামলায় এক সার্ফারের মৃত্যু হয়। এর দুই মাস পর সিডনির উত্তরে একটি নির্জন সৈকতে বুল শার্কের হামলায় এক নারী নিহত হন।