শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা আরও জোরালো করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এ সময় ন্যাটো জোটের সদস্য ডেনমার্কসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক দিনে এ সব দেশ ৫৭ হাজার জনসংখ্যার স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করেছে।
পামবীচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এই শুল্ক আরোপ বাস্তবায়িত হলে ন্যাটোর ভেতরে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্প জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১ জুন ২০২৬ থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয় নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, এই শুল্ক বহাল থাকবে।’
এই পোস্টে তিনি আরও জানান, এই দেশগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এক খেলায় নেমেছে। এতে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্প আরও জানান, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে করে এই সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটে।
তবে তিনি এও জানান যে ডেনমার্ক কিংবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত আছেন।
ডেনমার্ক ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার।
তিনি বলেন, এটি ‘সম্পূর্ণ ভুল।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, ‘শুল্কের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই প্রেক্ষাপটে এর কোনো স্থান নেই।’
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ভয় পাব না।’
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যৌথ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে।
এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বলেন, এই জোট ‘ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের পাশে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।’
রোববার ব্রাসেলসে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করে বলেন, তিনি কূটনীতি ও মিত্রতার বিজয়ের ব্যাপারে কৃতজ্ঞ ও আশাবাদী।
‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’ স্লোগানে উত্তাল নুউক
গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর নুউকে বিক্ষোভকারীদের অনেকের মাথায় ছিল ‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’ স্লোগান লেখা টুপি, যেটি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের পাল্টা বার্তা।
৪৪ বছর বয়সী নার্স পার্নিক লারসেন স্ট্রুম বলেন, ‘আমরা চাই না যে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালান, আর এই বার্তাই দিতেই আমরা আজ এখানে এসেছি।’
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ভয় ধরানোর প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দেন।
বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক আভিজাজা রোসিং-ওলসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও জনগণ হিসেবে আমাদের প্রতি সম্মান দাবি করছি।’
কোপেনহেগেনে ৫২ বছর বয়সী দাতব্য সংস্থার কর্মী কির্সটেন হিওর্নহোল্ম বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মিত্র দেশের কাছ থেকে হুমকি মেনে নেওয়া যায় না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।
কেউ কেউ বহন করেন ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’— স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড।
ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন ও রাশিয়া দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
যদিও তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
চীন ও রাশিয়া আর্কটিকে তাদের নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়িয়েছে ঠিকই, তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে তারা কোনো দাবি করেনি।
ফ্রান্স জানায়, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সামরিক মহড়া আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বকে দেখানো যে তারা এই ভূখণ্ড রক্ষা করবে। ডেনমার্ক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকেও ওই মহড়ায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপে ট্রাম্প কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন কি-না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছেন।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এটি অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার জবাব ও সরকারগুলোকে চাপ দেওয়ার কৌশল।
গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তি এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা কোপেনহেগেন সফর শেষ করেন।
তারা গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনসের নেতৃত্বাধীন দলটি সাংবাদিকদের জানায়, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকরা ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে নেই।
গ্রিনল্যান্ডবাসীরাও এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জানুয়ারি ২০২৫-এ প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। মাত্র ছয় শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।