বাসস
  ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩

অনলাইনে মন্তব্যের জন্য এক ইরানি নারীর বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আবেদন ফরাসি কৌঁসুলির

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ফ্রান্সের এক  প্রসিকিউটর শুক্রবার অনলাইনে ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইরানি নারীর বিরুদ্ধে এক বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন। মামলাটি দুই ফরাসি নাগরিকের সঙ্গে সম্ভাব্য বন্দি বিনিময়ের  সঙ্গে সম্পর্কিত।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এই মামলার রায় আগামি ২৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী ইরানি নারী মাহদিয়েহ এসফানদিয়ারিকে ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্সে গ্রেফতার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচার ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলা নিয়ে তিনি (মাহদিয়েহ) যে মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মাহদিয়েহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ‘অ্যাক্সিস অব দ্য রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি চ্যানেলের জন্য টেলিগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), টুইচ ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট লিখেছিলেন।

প্রায় আট মাস বিচার-পূর্ব আটক থাকার পর অক্টোবরে মাহদিয়েহ জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিচার শুরু হয় মঙ্গলবার। 

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরুর অনেক আগেই এই বিচার নির্ধারিত ছিল। 

কৌঁসুলি এসফানদিয়ারির জন্য চার বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন, যার মধ্যে তিন বছর স্থগিত থাকবে।

তবে তিনি বলেন, তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

ইরানি কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রকাশনা সংস্থার বই ফরাসিতে অনুবাদ করেছেন মাহদিয়েহ।

মাহদিয়েহ আদালতে বলেন, তিনি ‘অ্যাক্সিস অব দ্য রেজিস্ট্যান্স’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ওই পোস্টগুলো তিনি লিখেননি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি সন্ত্রাসী কাজ নয়, এটি প্রতিরোধের একটি কাজ।’

-ফরাসি নাগরিকদের আটক-

এই সপ্তাহের বিচার শুরুর আগেই ইরানের কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এসফানদিয়ারির বিনিময়ে আটক থাকা দুই ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিতে রাজি।

সিসিল কোলার ও জাক প্যারিস নামের ওই দুই ফরাসি নাগরিককে ২০২২ সালের মে মাসে ইরানে গ্রেফতার করা হয়। 

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তারা তিন বছরের বেশি সময় কারাভোগ করার পর নভেম্বরে মুক্তি পান। 

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাদের পরিবার জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

মুক্তির পরপরই ফরাসি কূটনীতিকরা তাদের তেহরানে ফ্রান্সের দূতাবাসে আছেন এবং ফ্রান্সে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নভেম্বরে বলেন, ফ্রান্স যদি মাহদিয়েহকে মুক্তি দেয়, তবে ‘বিনিময়ের’ অংশ হিসেবে কোলার ও প্যারিসকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে।

ইরানে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন নেজাদ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, তিনি আশা করছেন ফরাসি এই দু’জন শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তাদের প্রত্যাবর্তনই আমার কামনা।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগেও ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে আটক ইরানিদের বিনিময়ে পশ্চিমা নাগরিকদের মুক্তি দিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, বিদেশিরা আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দণ্ডিত হন।