শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরানে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে শাসকগোষ্ঠীর কঠোর দমন-পীড়ন ব্যবস্থার কারণে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে নৌ মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির উপস্থিতিকে ‘বিশেষভাবে নিন্দনীয়’ বলে সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় অংশ নিতে চীন, ইরান, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজগুলো প্রায় এক সপ্তাহ আগে কেপ টাউনের উপকূলীয় জলসীমায় প্রবেশ করে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার চীন-নেতৃত্বাধীন এই মহড়া থেকে ইরানকে সরে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছিল।
এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানে দমন-পীড়ন চলছে, আর এর ফলে মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
মহড়াগুলোতে ইরানি জাহাজগুলো ঠিক কতটা জড়িত ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার নৌবাহিনী এই মহড়াগুলোকে ন্যায্যতা দিয়ে বলেছে, এগুলো ‘জাহাজ চলাচলের পথ ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার’ জন্য প্রয়োজনীয়।
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন, এই মহড়ায় এমন দেশগুলো একত্রিত হয়েছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের কূটনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। অথচ একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘ইরান একটি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি এবং সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র। যৌথ মহড়ায় যে কোনো সক্ষমতায়ই হোক না কেন, ইরানের অন্তর্ভুক্তি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি বিশেষভাবে নৈতিকতা বিরোধী যে তারা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছে ঠিক সেই সময়ে, যখন তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ইরানি নাগরিকদের ওপর গুলি চালাচ্ছে, কারাবন্দি করছে ও নির্যাতন করছে, অথচ অধিকার অর্জনের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকানরা নিজেরাই এত কঠোর সংগ্রাম করেছে।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যা মামলাসহ বিভিন্ন নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে।
দূতাবাস বলেছে, ‘ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকে ‘ন্যায়বিচার’ নিয়ে উপদেশ দিতে পারে না।’
বিক্ষোভের সময় গ্রেফতারকৃতদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যদিও তিনি তার সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আমেরিকা বিরোধী নীতির অভিযোগ এনেছে এবং নভেম্বরে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করেছে।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে।