বাসস
  ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৮

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল দিলেন মাচাদো

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তার নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দিয়েছেন। 

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার দূরত্ব কাটাতে মাচাদো এই পদক্ষেপ নেন। 

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, এ পুরস্কার তার পাওয়া উচিত ছিল। 

জানুয়ারি ৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করার পরও ট্রাম্প মাচাদোকে সমর্থন দেননি। বরং তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন করছেন। শর্ত একটাই, ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে চলা, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ শেষে ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের মাচাদো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দিয়েছি।’

৫৮ বছর বয়সী এই নেতা জানান, এটি ছিল ‘আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গিকারের স্বীকৃতি।’

তবে ট্রাম্প পদকটি রেখেছেন কি-না, তা স্পষ্ট নয়। 

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি অবশ্য জানিয়েছে যে এই পুরস্কার অন্য কাউকে হস্তান্তর করার নিয়ম নেই।

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার জন্য ট্রাম্প জোর প্রচারণা চালান। তিনি দাবি করেন, আটটি যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টার জন্য এ পুরস্কার তার প্রাপ্য। 

কিন্তু পুরস্কার যায় মাচাদোর হাতে। গত মাসে তিনি নরওয়ের অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ করেন। 

ভেনেজুয়েলা থেকে নৌপথে পালিয়ে এসে মাচাদো অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং তখনই তিনি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।

ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, মাদুরো ২০২৪ সালের নির্বাচন কারচুপি করেছেন। মাচাদোর দলের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়ার জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। 

ওয়াশিংটনও তাদের এ দাবি প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। 

তবে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর জনসমর্থন যথেষ্ট নয়। তাই তিনি মাদুরোর সাবেক ঘনিষ্ঠ রদ্রিগেজকে বেছে নিয়েছেন। 

বুধবার ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রথম টেলিফোন আলাপ হয়। হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব নিয়ে ‘সন্তুষ্ট।’

এদিকে, রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার বলেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াইয়ে ভয় পায় না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি তারা কতটা শক্তিশালী। আমরা জানি তারা পরমাণু শক্তিধর দেশ। কিন্তু আমরা তাদেরকে ভয় পাই না। আমরা কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করব।’

মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের জেলে মাদক পাচারের মামলায় বন্দি থাকায়, তার পরিবর্তে রদ্রিগেজই পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন চালানো মাচাদো হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় উল্লসিত জনতার অভ্যর্থনা পান। 

ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে আসে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য এক সাহসী ও অসাধারণ কণ্ঠ।’ 

তবে ভেনেজুয়েলায় কবে নাগাদ নির্বাচন হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো সময়সীমা জানায়নি।

মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে।’ 

এ জন্য নৌ অবরোধ ও হামলার হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের কথামতো তেল প্রবাহ অব্যাহত থাকলে, রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় থাকতে দিতে তিনি আপত্তি করছেন না।

এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার ষষ্ঠ তেল ট্যাংকার জব্দ করে। দেশটির জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণে অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। 

এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, এর মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার। তবে ক্রেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

রদ্রিগেজ তার ভাষণে তেল খাতে আইনি সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিদেশি অংশগ্রহণ সীমিত। 

তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

গত সপ্তাহে কয়েক ডজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও শত শত মানুষ এখনো কারাগারে রয়েছে। মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সেই ঝটিকা অভিযানের রেশ এখনো রয়ে গেছে। 

গত বৃহস্পতিবার কিউবায় এক শোক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই অভিযানে নিহত ৩২ জন কিউবান সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্য ছিলেন। 

কিউবার বিপ্লবী নেতা রাউল কাস্ত্রো এই শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।