বাসস
  ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ছোট শহরের বাসিন্দাদের উদ্বেগ

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মস্কো থেকে গাড়িতে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত মধ্যযুগীয় শহর তভেরের বাসিন্দারা এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলার সময় কর্তৃপক্ষ মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। 

ড্রোনগুলোর নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর আশঙ্কার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। 

আর এর পাল্টা জবাবে রাশিয়া প্রতি রাতেই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম দিকে জনমনে প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হলেও, কয়েক মাসের ব্যবধানে এটি এখন দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

প্রায় চার লাখ মানুষের শহর তভেরের ৪২ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক আন্তোনিনা এএফপিকে বলেন, ‘একমাত্র অসুবিধা হলো, ইন্টারনেট না থাকা। বাকিটা কোন না কোনভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়।’

ক্রেমলিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখাকে প্রয়োজনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। 

কর্মকর্তারা এমন কিছু ডিজিটাল সেবার ‘হোয়াইট লিস্ট’ও তৈরি করেছেন। এই সেবাগুলো ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও চালু থাকবে।

ছুটিতে থাকা সেনা সদস্য ইভান নুলেভ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন। 

তিনি বলেন, ‘এই সবই আমাদের নিরাপত্তার জন্য। আগে তো ইন্টারনেট ছাড়াই আমরা বেঁচে ছিলাম।’

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও কোম্পানি পরিচালক নাতালিয়া বলেন, ‘কখনও কখনও ইন্টারনেট না থাকাটা আমাদের শিশুদের জন্য ভালোই।’

তবে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও, তভেরের ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

মস্কো থেকে আসা ৩৯ বছর বয়সী সফটওয়্যার ডেভেলপার ম্যাক্সিম বলেন, ‘সমাজে একটা চাপা উত্তেজনা আছে। মস্কোর তুলনায় এখানে সেটা বেশি অনুভূত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব সবাই অনুভব করছে। এই সংঘাত থেকে কেউই লাভবান হচ্ছে না।’

স্বাধীন জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টারের ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, যদিও রাশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক এখনো ইউক্রেনে সেনা অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন, তবে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে বেছে নিতে বলা হলে মাত্র ২৫ শতাংশ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এ হার সর্বনিম্ন।

গত মাসে ইউক্রেন থেকে আসা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ তভেরের একটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় সাত জন আহত হন।

মঙ্গলবার ভোরে আঞ্চলিক গভর্নর ভুলবশত জানান, ইউক্রেনের ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। 

তবে, পরে জানা যায়, ঘটনাটি আসলে একটি গ্যাস বিস্ফোরণ ছিল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তভের অঞ্চলে ছয়টি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া প্রতিরাতে ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সেখানকার আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইউক্রেন বলছে, তাদের পাল্টা হামলা ন্যায্য এবং এর লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা ও রাশিয়ার তেল-গ্যাস শিল্প, যেখান থেকে যুদ্ধের অর্থায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার এএফপিকে স্থানীয় বাসিন্দা ওলগা বলেন, ‘আমাদের শহরটি মোটেই নিরাপদ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ড্রোন নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’

এএফপির সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকের মতো তিনিও নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।