বাসস
  ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪

ইরানে নতুন বিক্ষোভ, দমনপীড়নে ‘গণহত্যার’ উদ্বেগ বাড়ছে

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও ইরানে গত রাতে নতুন করে রাজপথে নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো রোববার সতর্ক করে বলেছে, বিক্ষোভ দমনে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘গণহত্যা’ (ম্যাসাকার) চালাচ্ছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গত দুই সপ্তাহ ধরে এই বিক্ষোভ চলছে। 

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এ বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী তেহরান এবং পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিশাল জনতা বিক্ষোভ করছে। মাশহাদে বেশ কিছু যানবাহনে আগুন দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় মেসেজিং অ্যাপ বা এমনকি ফোন লাইনের মাধ্যমেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও এসব ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।

ইন্টারনেট মনিটর ‘নেটব্লকস’ রোববার ভোরে জানায়, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সময় এখন ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে। তারা বলেছে, এই সেন্সরশিপ ইরানিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য সরাসরি হুমকি।

এএফপি এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও কয়েকটিতে দেখা গেছে, তেহরানের মর্গে বিক্ষোভে নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করছেন স্বজনরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৭ জন সদস্যসহ মোট ১১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। 

নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ রোববার নতুন একটি তালিকা প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে।

অ্যাক্টিভিস্টরা সতর্ক করেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’ (সিএইচআরআই) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী ইন্টারনেট বন্ধ থাকাকালীন সারা দেশে কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই এবং রক্তের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক বিক্ষোভকারীকে পরিকল্পিতভাবে সরাসরি চোখে গুলি করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি দাবি করেন, ‘ভাঙচুরের’ ঘটনা কমে আসছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা বিক্ষোভকে ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা মূলত সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বরকে চাপা দিচ্ছে।

এদিকে, নির্বাসিত সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি রোববার নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। 

এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘রাজপথ ছেড়ে যাবেন না। আমার হৃদয় আপনাদের সঙ্গেই আছে। আমি জানি, খুব শিগগিরই আমি আপনাদের পাশে থাকব।’