বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতদের দাফন ভেনেজুয়েলায়, মাদুরোর প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতদের দাফন করেছে ভেনেজুয়েলা। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক নেতা নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে।

কারাকাসে বুধবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদুরোর প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহতদের স্বজনদের শোকাহত মুহূর্তও দেখা যায় সরকার প্রকাশিত ভিডিওতে। 

কারাকাস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে বোমা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। মাদক মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে তাদের সেখানে নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই সরকারপন্থীরা প্রতিদিন বিক্ষোভ করে আসছে।

বিক্ষোভকারীরা তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে নগরীর মধ্যাঞ্চল দিয়ে অগ্রসর হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা স্লোগান দেয়, ‘নিকো, শক্ত থাকো, জনগণ জেগে উঠেছে!’

আরো স্লোগান ওঠে, ‘ট্রাম্প, আমাদের নিকোকে ফিরিয়ে দাও!’

৫৮ বছর বয়সী কমিউনিটি নেত্রী ন্যান্সি রামোস সামরিক পোশাক ও লাল বেরেট পরে চোখের জলে এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট নির্দোষ। তিনি একজন কর্মজীবী মানুষ, জনগণের মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া ও অন্য দেশে বিচার করার পরিকল্পনা আমরা মানি না। তার দেশ ভেনেজুয়েলা।’ এ সময় তিনি মাদুরো ও ফ্লোরেসের দুটি মূর্তি বুকে জড়িয়ে ধরেন।

বিক্ষোভকারীরা হামলায় নিহতদের স্মরণ করেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নতুন হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।

৫৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত তানিয়া রদ্রিগেজ বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদীরা বোমা নিয়ে এসেছিল। তারা সেনা ও বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বেদনা নিয়ে, এমনকি ভয় নিয়েও আমরা মিছিলে নেমেছি। তবে আমরা সম্মান ও সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় বিরোধীরা নীরব অবস্থানে রয়েছে। জরুরি ডিক্রি জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রশংসা প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত সেনাদের দাফনের ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে শোকাহত স্বজনদের উপস্থিতি দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার পতাকায় মোড়া কফিনগুলো সারিবদ্ধভাবে বহন করে ইউনিফর্ম পরা সেনারা।

কফিনের ওপর ফুলের তোড়া ও মালা রাখা হয়। নিহতদের ছবিও সেখানে ছিল।

সরকারি হিসাবে, ৩ জানুয়ারির হামলায় অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক এবং ভেনেজুয়েলা ও কিউবার ৫৫ জন সেনা নিহত হন।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার নিহতদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘ক্ষতবিক্ষত দেহের ছবি আমার আত্মাকে বিদ্ধ করেছে। তবে আমি জানি, তারা এই প্রজাতন্ত্রের কল্যাণে শহীদ হয়েছেন।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভøাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘ঠান্ডা মাথায়’ খুন করেছে।