বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৮

গাজায় শেষ ইসরাইলি জিম্মির মরদেহের সন্ধান আবার শুরু হয়েছে: হামাস

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): হামাসের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুই সপ্তাহ বিরতির পর বুধবার গাজায় আটক থাকা শেষ ইসরাইলি জিম্মির মরদেহের সন্ধান কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।

ইসরাইল আগে জানিয়েছিল, অক্টোবরে কার্যকর হওয়া হামাসের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরুর আগে তারা র‌্যান গভিলির মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

গাজা সিটি থেকে এএফপি জানায়, হামাসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি আন্দোলনটির সশস্ত্র শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডস ‘রেড ক্রসের দলগুলোর সঙ্গে’ আজ দক্ষিণ-পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় শেষ ইসরাইলি বন্দির মরদেহ উদ্ধারে অনুসন্ধান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে।

আরেক কর্মকর্তা জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থগিত ছিল, ফলে খননযন্ত্র ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি জেইতুন এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আজ অনুসন্ধান কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে, এবং আমরা আশা করছি মরদেহটি উদ্ধার করে বিনিময় সংক্রান্ত ফাইলটি বন্ধ করতে পারব।’ একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করা এবং গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিতে ইসরাইলের ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলের ওপর হামলায়, যা গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়, মোট ২৫১ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এখন শুধু গভিলির মরদেহই রয়ে গেছে।

ইসরাইলি পুলিশের অভিজাত ইয়াসসাম ইউনিটের নন-কমিশন্ড অফিসার গভিলি হামলার দিনই নিহত হন এবং তার মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইসরাইলি সংগঠন এক বিবৃতিতে জানায়, গভিলির মরদেহের সন্ধান পুনরায় শুরু করার ‘কার্যকরী সিদ্ধান্তে’ যে চাপ ভূমিকা রেখেছে, তারা তা স্বাগত জানিয়েছে।

‘অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের অনুভূতির এক কঠিন মাসের পর আমরা গভীর স্বস্তি পাচ্ছি যে অনুসন্ধান দলগুলো আবার মাঠে ফিরেছে,’ জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবার ফোরামের বিবৃতিতে গভিলির বাবা-মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়।

তারা যোগ করেন, ‘এখন সময় হামাসের বোঝার যে বিনা খরচে ছাড় নেই। আমাদের রানি ঘরে না ফেরা পর্যন্ত রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা উচিত নয়।’

‘চুক্তিটি সম্পন্ন করতে এবং আমাদের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীদের সব ধরনের প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানাই। রানি, আমরা তোমার অপেক্ষায় আছি। তুমি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা থামব না।’