শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার নিজ প্রদেশে বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছে। রিয়াদে আলোচনায় হাজির না হওয়া এবং দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল সংস্থা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই এ হামলা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বরাত দিয়ে আদেন থেকে এএফপি জানায়, গত মাসে আইদারোস আলজুবিদির সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর আলোচনার জন্য রিয়াদে আসতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু তিনি তার প্রতিনিধিদল বহনকারী বিমানে ওঠেননি; পরে তাকে সেখানে ‘বৃহৎ বাহিনী’ সমাবেশের অভিযোগ এনে তার নিজ প্রদেশ আল-ধালে জেলায় হামলা চালায় জোট।
এরপর নির্বাহী ক্ষমতাধারী এবং ইউএই ও সৌদি-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল আলজুবিদিকে অপসারণের ঘোষণা দেয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে।
ইয়েমেনের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এডেনকে সহিংসতার কবলে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে—যেখানে এসটিসি জোর দিয়ে বলেছে, তাদের নেতা এখনও অবস্থান করছেন।
এসটিসির অগ্রযাত্রা এবং সৌদির প্রতিক্রিয়া ইয়েমেনে আরেক তেলশক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্র—সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ককেও তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলেছে, তারা আলোচনায় প্রস্তুত; তবে তারা সতর্ক করেছে যে রিয়াদে থাকা তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার আল-ধালে জেলায় ১৫টির বেশি বিমান হামলা হয়েছে বলে এক স্থানীয় কর্মকর্তা এএফপিকে জানান। দুই হাসপাতাল সূত্র জানায়, এতে চারজন নিহত হয়েছেন।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, আলজুবিদি ‘আদেনের ভেতরে ডজনখানেক সদস্যের মধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিতরণ করার পরই অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন’।
তিনি বলেন, আলজুবিদিকে ‘সংঘাত বাড়ানো’ এবং তা ধালে গভর্নরেটে বিস্তৃত করা থেকে ঠেকাতেই জোট হামলা চালিয়েছে।
এসটিসির এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আলোচনার জন্য সৌদি আরবগামী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আলজুবিদি—কারণ তিনি জানতে পারেন, তাকে তার গোষ্ঠী ভেঙে দিতে বলা হবে; এই গোষ্ঠীটি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অংশ।
পরে এসটিসি জানায়, রিয়াদে পৌঁছানোর পর তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং সৌদি আরবকে ‘বর্তমানে রিয়াদে থাকা তাদের প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ আহ্বান জানায়।
গোষ্ঠীটি জানায়, আলজুবিদি এডেনে ‘নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন’ এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল আলজুবিদির অপসারণের ঘোষণা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ ও ‘সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত থাকা’সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে (আলজুবিদি) দক্ষিণের ন্যায্য দাবিকে অপব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলের গভর্নরেটগুলোতে বেসামরিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছেন।’
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা এবং স্থল সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের বিভক্ত সরকারে সৌদি ও আমিরাত বহুদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে—যদিও শুরুতে তারা হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে একসঙ্গে যোগ দিয়েছিল।
জোট এবং আরেকটি সৌদিুসমর্থিত গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা এসটিসির উপনেতা আবদুলরহমান আল-মাহরামিকে—যিনি রিয়াদে অবস্থান করছেন এবং আলজুবিদির প্রেসিডেন্সি থেকে অপসারণ অনুমোদন করেছেন—এডেনে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শত্রুতা প্রতিরোধে’ পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
আদেনের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, মাহরামির অনুগত বাহিনী রাস্তায় এবং সরকারি ভবনে, এমনকি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদেও মোতায়েন করা হয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যমে আরও জানানো হয়েছে, সৌদ-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী এডেনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে—যা ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে লড়াই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে; তবে এএফপি এসব দাবি যাচাই করতে পারেনি।
আদেন এসটিসির ঘাঁটি এবং গোষ্ঠীটির সদর দপ্তর সেখানেই অবস্থিত।
২০১৪ সালে ইরান-মর্থিত হুতিরা সানা দখল করার পর সরকার এটিকে নিজেদের ঘোষিত অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে।
গৃহযুদ্ধ এগোতে থাকায় দক্ষিণ ইয়েমেন জুড়ে এসটিসির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তৃত হয় এবং তারা এডেনে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।
আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, দুই দিন আগে এসটিসি এডেনে তাদের সদর দপ্তর খালি করে দেয় এবং সৌদি বোমাবর্ষণের আশঙ্কায় তাদের টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রম অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়।
গত সপ্তাহে আলজুবিদি ইয়েমেনের দক্ষিণে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’ নামে নতুন একটি দেশ গঠনের লক্ষ্যে দুই বছরের রূপান্তর প্রক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।