শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মালয়েশিয়ার ১০০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বাড়িতে পড়ে গিয়ে নিতম্বে যে হাড়ফাটা চোট পেয়েছেন, বয়সজনিত কারণে তার অস্ত্রোপচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন তার ছেলে।
মঙ্গলবার বাড়িতে পড়ে যাওয়ার পর সচেতন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, এএফপিকে জানান তার সহকারী সুফি ইউসুফ।
কুয়ালালামপুর থেকে এএফপি জানায়, চিকিৎসকরা তার ডান নিতম্বে হাড়ফাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুফির ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে ‘আগামী কয়েক সপ্তাহ’ হাসপাতালে থাকতে হবে।
পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পরীক্ষা-নীরিক্ষায় তাঁর ডান পাশের হিপে ফ্রাকচার ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকা লাগতে পারে। তিনি বারান্দা থেকে বসার ঘরে যাওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে যান।
বুধবার মাহাথিরের ছেলে মুখরিজ এক ভিডিও বার্তায় জানান, দৈনিক দ্রুত হাঁটার ব্যায়াম শেষে ঘরের ভেতরেই তার বাবা পড়ে যান।
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে তার বয়স এখন ১০০ বছর ছাড়িয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় অস্ত্রোপচার ভালো বিকল্প নয়।’
‘এ কারণে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন তাকে প্রচলিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে, যা কিছুটা সময় নেবে,’ যোগ করেন মুখরিজ।
তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য অবশ্যই তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যাবস্থায় ফিরে যাওয়া এবং এতদিন যেভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তা আবার চালিয়ে যেতে পারা।’
মুখরিজ শুভকামনা ও দোয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, তুন মাহাথিরকে বিশ্রাম নেওয়া এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও পরিসর দিন।’
মঙ্গলবার মাহাথিরের মেয়ে মারিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে বলেন, তার বাবার চোট ‘গুরুতর, তবে প্রাণঘাতী নয়’।
এএফপিকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘বাবা ভালো আছেন, কিন্তু বয়স যাই হোক- নিতম্বের হাড়ে ফাটল সব সময়ই কষ্টকর। ১০০ বছর বয়সে যে কোনো পড়া বা হাড়ভফাটা খারাপ, তাই সেরে উঠতে সময় লাগবে।’
প্রবীণ এই রাজনীতিক আগে হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় বাইপাস অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
তিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে তার বয়স ছিল ৯৪ বছর; সে সময় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নির্বাচিত নেতা ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাহাথির বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। গত জুলাইয়ে শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি পিকনিকে অংশ নেওয়ার পর ক্লান্তিজনিত কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল মাহাথিরের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আজিজাহ ও আমি তুনের (মাহাথিরের) সুস্থতা ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।
মাহাথির মোহাম্মদ আনোয়ারের ইব্রাহীমের রাজনৈতিক গুরু থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হন।