শিরোনাম

ঢাকা,৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ দ্বিতীয় দিনে গড়ানোয় বুধবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো নগরীতে স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। এই দুই পক্ষের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ। মার্চে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী কুর্দিদের আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন ও সামরিক কাঠামোকে সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী সরকারের সঙ্গে একীভূত করার কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
দামেস্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
৫০ বছর বয়সী আবদুল করিম বাক্কি এএফপিকে বলেন, ‘রাতে আলেপ্পো ছিল ভূতুড়ে শহরের মতো। কোথাও কোনো নড়াচড়া ছিল না। দোকানপাট বন্ধ ছিল। অনেক রাস্তায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে আসে।’
আলেপ্পোর দুটি কুর্দি-অধ্যুষিত এলাকার একটির বাসিন্দা বাক্কি সহিংসতা থেকে বাঁচতে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা বুধবার জানায়, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে সরকার-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। জবাবে সিরীয় সেনারাও পাল্টা গুলি চালায়।
দামেস্কে কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের প্রতিনিধি আবদুল করিম ওমর এএফপিকে বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, আলেপ্পোর কুর্দি-প্রধান আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা ‘সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ’ রয়েছে। তিনি ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, এসব এলাকা কুর্দিদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী আসায়িশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের কাছে কেবল হালকা অস্ত্র আছে।
মঙ্গলবার সহিংসতার কারণে আলেপ্পো বিমানবন্দর থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। সানা জানায়, ওই ফ্লাইটগুলো দামেস্ক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ সময় স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দফতরও বন্ধ রাখা হয়।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে নিহত নয়জনের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। সংঘর্ষের সূচনা কে করেছে—এ নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করছে।
৫৩ বছর বয়সী গৃহিণী ও সিরিয়াক কোয়ার্টারের বাসিন্দা জুদ সারজিয়ান বলেন, এই সহিংসতা আমাদের যুদ্ধের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
আশরাফিয়াহর কাছের সিরিয়াক কোয়ার্টারে বসবাসকারী সারজিয়ান বলেন, আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। তাই আমরা বাড়িতেই থাকব।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আলেপ্পোতে বিদ্রোহী ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। ২০১৬ সালে আসাদ শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন।
২০২৪ সালে এক দ্রুত ইসলামপন্থী অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
কুর্দি কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মার্চে হওয়া চুক্তিটি ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নের কথা ছিল।
কুর্দিরা বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।