শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বার্লিনের কিছু এলাকায় এক আগুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি উগ্র বামপন্থী দল বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ওই অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করেছে। শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে শহরের কোটি কোটি মানুষ অন্ধকার ও তীব্র ঠাণ্ডায় পতিত হয়েছে। বার্লিন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
জার্মান রাজধানীর সবুজ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থানীয় ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানপাঠ, স্কুল ও হাসপাতালও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি জরুরি অবকাঠামোতে সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
৭৭ বছর বয়সী জুট্টা হার্টার জানান, শনিবার সকালে হাই-ভোল্টেজ ক্যাবলে আগুন লেগে ৪৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি অন্ধকারে নিমজ্জিত। অনেকের ঘরে উষ্ণতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা ছিল না।
হার্টার বলেন, তিনি ও তার স্বামী শোবার ঘরে আগুন জ্বালান। তবু তাপমাত্রা মাত্র ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছায়।
জেহলেনডরফে টাউন হলে তার চারপাশে অনেক বাসিন্দা উষ্ণতা, গরম পানীয় এবং মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য যন্ত্র চার্জ করার জন্য জায়গা খুঁজছিলেন।
হার্টার বলেন, বন্ধুদের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব পেয়েছিল, কিন্তু তারা ঘরে থাকতে চান।
-‘কিছুই বাদ দেওয়া যায় না’-
অনলাইন মাধ্যমে ভলকানগ্রুপ নামে এক উগ্রবাদী গ্রুপ আগুন লাগানোর দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ‘জ্বালানি অর্থনীতি’, যা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বাড়াচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে একটি অনুরূপ হামলার দায় আরেকটি নির্বাচন-বিরোধী গ্রুপ স্বীকার করে। তখন বিদ্যুৎস্তম্ভে আগুন লাগালে বার্লিনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে পড়ে যায়।
জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এখনো ভলকানগ্রুপের দায় স্বীকারের সত্যতা যাচাই করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছে।
এই অগ্নিসংযোগ এমন সময় ঘটেছে, যখন ইউক্রেনের শক্তিশালী সমর্থক জার্মানি, রাশিয়াকে একাধিক হাইব্রিড হামলার জন্য দায়ী করেছে। ড্রোন ওভারফ্লাইট, গুপ্তচরবৃত্তি ও অনলাইন মিথ্যাচারসহ বিভিন্ন হামলার জন্য দেশটি রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
রক্ষণশীল এমপি রোডেরিক কিজেভেটার এই হামলায় মস্কো জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের আগের হামলার সঙ্গেও মস্কো যুক্ত থাকতে পারে।
-‘খুবই অন্ধকার ও ঠান্ডা’-
বার্লিনের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো সেনাবাহিনী ও দাতব্য সংস্থার সহায়তায় স্টেগলিট্জ-জেলেনডর্ফ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তৎপর হয়ে ওঠে। তারা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদেরও সহায়তা দেন। তাদের উষ্ণ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হোটেল, স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্রেও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ পরিবারকে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী ফিলিপ পাসেমান টাউন হলে মোবাইল ফোন চার্জ করছিলেন। তার গায়ে ছিল মোটা কোট ও মাথায় উলের টুপি।
কাছের একটি শেয়ার ফ্ল্যাটে থাকা পাসেমান বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি বাড়িতেই রাত কাটাতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘খুব ঠান্ডা। তবে আমার কাছে কয়েকটি কম্বল আছে, মোজা আছে, এসব দিয়েই কোনোভাবে চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সকালে খুব অন্ধকার ও ঠান্ডা থাকে। তবে সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে গায়ে গরম কাপড় মোড়ানো থাকলে ঠিকই চলে।’
নাগরিকদের ক্ষোভের মুখে বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ঘটনা ‘আবারও’ দেখিয়ে দিয়েছে যে ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর সংসদীয় তদারকি কমিটির প্রধান মার্ক হেনরিশমান বলেন, সরকার ‘সহিংস উগ্রবাদী ও আমাদের গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সক্ষমতা প্রয়োগ করবে।’