বাসস
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪০

গ্রিনল্যান্ড দখল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ডেনমার্ক

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জোর করে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায় তবে তা আট দশকের ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা সম্পর্ক ধ্বংস করবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আর্কটিকের খনিজসমৃদ্ধ এ অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এমন আকাঙ্ক্ষা ডেনমার্কের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলে রয়েছে বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ। এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করায় এটি নতুন নৌপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং ডেনমার্ক এটি রক্ষা করতে পারবে না।’

এর জবাবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পকে এসব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। 

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা ন্যাটো মিত্র ডেনমার্ককে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

কোপেনহেগেনে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন টিভি-টু নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ন্যাটোসহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের সংক্ষিপ্ততম পথে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান। সেখানে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। 

ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ট্রাম্প রোববার কৌতুক করে বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই মাস পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভাবব।’

এর প্রতিক্রিয়ায় নিলসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘অনেক হয়েছে। আর চাপ দেবেন না, আর কোনো ইঙ্গিত বা দখলের কল্পনা করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা আন্তর্জাতিক আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হতে হবে।

সোমবার নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জানান এবং আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। বিষয়টি তেমন নয়। তাই আমাদের আতঙ্কিত হওয়া চলবে না। আমাদের সেই আগের সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করায় ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। 

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলা শাসন করবে এবং সেখানকার তেল সম্পদ ব্যবহার করবে।

ট্রাম্প গত ডিসেম্বর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড উপকূলে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ সবসময় অবস্থান করছে। তবে বেইজিং এই দাবি নাকচ করে দিয়ে একে স্বার্থ হাসিলের অজুহাত বলে অভিহিত করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধি আজা কেমনিটজ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে গ্রিনল্যান্ডবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

তবে কোপেনহেগেনের সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘পাগলামি’ বলে মনে করছেন।

ডেনমার্কের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বৃটেন, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে এবং ফ্রান্স সমর্থন জানিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই নির্ধারণ করতে পারে। 

ফ্রান্স বলেছে, বলপ্রয়োগ করে সীমানা পরিবর্তন করা যায় না।

এই বিতর্কের শুরু হয় ট্রাম্পের সাবেক সহকারী কেটি মিলারের একটি পোস্ট থেকে। তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন পতাকার ছবি দিয়ে লেখেন, ‘শিগগিরই’। তবে ডেনমার্ক একে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের কলোনি হিসেবে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত এবং এর জন্য যুদ্ধের প্রয়োজন হবে না।