শিরোনাম

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আলটাডেনার পাহাড়ি এলাকায় আগুনে নিজের ঘর পুড়ে যেতে দেখার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন বাড়িতে উঠেছেন টেড কোয়ার্নার। লস অ্যাঞ্জেলেসের এই উপশহরে পুনর্গঠনের কাজে তিনি প্রথম দিকের একজন।
পথটা সহজ ছিল না। কুকুর ডেইজিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ঘরে ফিরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এএফপিকে বলেন, ‘এই এক বছরে আমরা অনেক কিছু পার করেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের আলটাডেনা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল নগরীর বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আলটাডেনা। সেখানে হাজার হাজার ঘর পুড়ে যায়। প্রাণ হারান ১৯ জন। তুলনামূলকভাবে অভিজাত প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকায় মারা যান ১২ জন।
নিজের বাড়ি নতুন করে তুলতে ৬৭ বছর বয়সী কোয়ার্নারকে কয়েক লাখ ডলার আগাম দিতে হয়েছে। কারণ, তার মর্টগেজ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস বীমার অর্থ ছাড় করেনি। তিনি একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
ইস্পাত, কাঠ ও সিমেন্টের ওপর শুল্ক আরোপে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। এসব উপকরণ অনেক সময় আমদানি করা হয়। আবার লাতিনো নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর হাতে গ্রেফতারের ভয়ও কাজ করছে।
কোয়ার্নার বলেন, ‘আইসিই যদি নির্মাণদল ধরে নিয়ে যায়, তার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক—সব মিলিয়ে এই শহর আর কখনো গড়ে তোলা যাবে না।’
তবে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে আলটাডেনায়। হাজারো ফাঁকা প্লটের ফাঁকে ফাঁকে কিছু কাঠামোর অবয়ব মাথা তুলতে শুরু করেছে।
গত জানুয়ারিতে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির ঝোড়ো হাওয়া আগুনকে ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনো টাটকা। তবু ক্যালিফোর্নিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের স্থায়ী হুমকি সত্ত্বেও অনড় বাসিন্দারা এলাকা ছাড়তে চান না।
আরেক বাসিন্দা, ৬৭ বছর বয়সী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন রিডার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘কোথায় যাবেন? আশপাশে এমন কোনো জায়গা নেই, যা ভয়াবহ আবহাওয়ার ঝুঁকিমুক্ত।’
তার বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আশা করছেন আগস্টের মধ্যে উঠতে পারবেন। কারণ, সজ্জিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে তার মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ডলার। বীমা থেকে পাওয়া আবাসন ভাতা শেষ হওয়ার আগেই তিনি নতুন ঘরে যেতে চান।
প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ক্যালিফোর্নিয়ার আমলাতন্ত্র কিছুটা সরল করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এখন কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মাণ অনুমতি দিচ্ছে। আগে এতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগত।
তবু নতুন ভবন বিধিমালা মানা হচ্ছে কি না— যেমন ছাদে অগ্নিনির্বাপণ স্প্রিংকলার বসানো—এসব যাচাইয়ের পরিদর্শনে দেরি হওয়ায় হতাশ রিডার।
তিনি বলেন, ‘অরাজকতা আর দেরি অনেক বেশি। আগের চেয়ে হয়তো দ্রুত, কিন্তু একেবারেই সহজ মনে হয় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানি, যারা কম বীমা পেয়েছেন, তাদের তুলনায় আমি অনেক ভালো অবস্থায় আছি।’