বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭

বোমাবর্ষণে কেঁপে উঠল ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা বন্দর

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ১২ ঘণ্টা পরও রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা বন্দরের হ্যাঙ্গারগুলো থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। 

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করার লক্ষ্যে চালানো ওই অভিযানে লা গুয়াইরা ছিল হামলাকারীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর আকস্মিক এই হামলায় বন্দর এলাকাটির একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। 

এই বোমা হামলায় ভেঙ্গে যাওয়া শিপিং কনটেইনারগুলো থেকে ডকে পণ্য ছড়িয়ে পড়ে। 

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, হেলিকপ্টার নামিয়ে মাদুরোকে তার গোপন আশ্রয়স্থল থেকে ধরে নেওয়ার পথ পরিষ্কার করতেই এই হামলা চালানো হয়। 

তবে ওই এলাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীরা এক্সাভেটর দিয়ে ভাঙা কাচ ও মোচড়ানো ধাতব অংশ সরিয়ে নিচ্ছিলেন। লুটপাট ঠেকাতে মোটরবাইকে করে পাম্প-অ্যাকশন রাইফেলধারী পুলিশ সদস্যরা টহল দেন। 

কৌতূহলী স্থানীয়রা স্মার্টফোনে ভিডিও ধারণ করেন। 

এ সময় অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে এত অল্প সময়ে এমন বড় ঘটনা ঘটে গেল।

মাত্র এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ক্ষমতায় টিকে থাকা এক স্বৈরশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিস্ফোরণে লা গুয়াইরার সমুদ্রতীরবর্তী সরকারি ভবনগুলোর জানালা উড়ে যায়, বহু বাড়ির ছাদ ধ্বংস হয়ে যায়।

৪৭ বছর বয়সী বাসিন্দা আলপিদিও লোভেরা বলেন, ‘প্রথমে আলো ঝলকানি দেখলাম, তারপরই বিস্ফোরণ।’

হামলা থেকে বাঁচতে তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও অন্যদের নিয়ে পাহাড়ের দিকে ছুটে যান।

তার বোন, ৩৯ বছর বয়সী লিন্ডা উনামুনো কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণে আমার বাড়ির পুরো ছাদ ভেঙে গেছে।’

ঘটনার সময়ে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন যে এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 

২৬ বছর আগে ভয়াবহ ভূমিধসে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর স্মৃতি ফিরে আসে তার মনে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাইরে বেরিয়ে দেখি আকাশ থেকে  যেন আগুন ঝরছে। এটা ছিল ভয়ংকর একটি অভিজ্ঞতা। আমি চাই না যে আর কেউ এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হোক।’

হামলায় পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অবসরপ্রাপ্ত আলিরিও এলিস্তা বলেন, মাদুরোর পতনে যারা উল্লাস করছে, তারা বাস্তবতা বোঝে না। 

তার বিশ্বাস, মাদুরোকে আটক করার খবরটি ‘ভুয়া’।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেছে।

৬৮ বছর বয়সী এলিস্তা ভেনেজুয়েলার ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ দশকের স্বর্ণযুগের কথা স্মরণ করেন, যখন তেলসমৃদ্ধ দেশটি ছিল প্রাচুর্যে ভরা। 

তার মতে, গত এক দশকে মাদুরোর শাসনে অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি, তীব্র হয়েছে জ্বালানি, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের সংকট।

সপ্তাহে আধা ডলারেরও কম পেনশন দিয়ে তার জীবন চলে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

এলিস্তা বলেন, ‘এখন আমরা ক্ষুধার্ত।’

তবে তিনি এই সংকটের দ্রুত কোনো সমাধানের আশা দেখেন না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের স্বপ্ন তুলে ধরেন। 

তার মতে, এসব কোম্পানি অবকাঠামো মেরামত করবে এবং বাড়তি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে বিপুল মুনাফা অর্জন করবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

এলিস্তার পূর্বাভাস করে বলেন, ‘আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানে ফিরতে অন্তত ১৫ বছর লাগবে।’