বাসস
  ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৮

নিজের স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতার দাবি আবারও তুলে ধরলেন ট্রাম্প

ঢাকা, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তাার ‘নিখুঁত স্বাস্থ্য’ ও মানসিক সক্ষমতার কথা আবারও তুলে ধরেছেন। তার সুস্থতা নিয়ে চলমান পর্যবেক্ষণের মধ্যে ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন এমন একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশের এক দিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকেরা এইমাত্র জানিয়েছেন যে আমি ‘পারফেক্ট হেল্থ’-এ আছি এবং টানা তৃতীয়বারের মতো আমার কগনিটিভ পরীক্ষায় আমি ‘এসিইডি’ করেছি (অর্থাৎ, করা প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তর দিয়েছি!), যে পরীক্ষা কোনো বর্তমান প্রেসিডেন্ট বা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিতে রাজি ছিলেন না।’

বৃহস্পতিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। ৭৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী এই নেতা সেখানে বলেন, তার হাতে বড় আকারের কালশিটে দাগ পড়ার জন্য দায়ী অ্যাসপিরিন এবং তিনি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়েননি বলে দাবি করেন।

ট্রাম্প অক্টোবরে এমআরআই স্ক্যান করানোর বিষয়ে আগের বক্তব্যও বদলে বলেন, সেটি আসলে দ্রুততর একটি সিটি স্ক্যান ছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্ট এবং নিজেকে সুপারহিরো হিসেবে দেখানো এআই মিমের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাবমূর্তির বড় একটি অংশ তিনি শক্তিমত্তা ও কর্মচাঞ্চল্য প্রদর্শনের ওপর গড়ে তুলেছেন।

তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই এ নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে শুরু করেছে।

তার ডান হাতে স্থায়ীভাবে কালশিটে দাগ দেখা যাচ্ছে, যা প্রায়ই মোটা মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় এবং কখনো কখনো ব্যান্ডেজও থাকে। এ ছাড়া তার গোড়ালিও ফোলা দেখা গেছে।

কখনো কখনো ট্রাম্প স্পষ্টতই চোখ খোলা রাখতে হিমশিম খেয়েছেন। এর মধ্যে গত নভেম্বরে স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওভাল অফিসের এক বৈঠকও রয়েছে।

জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন না, কেবল বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চোখ বন্ধ করি। এটা আমার কাছে খুবই আরামদায়ক। কখনো কখনো তারা আমার চোখ পলক ফেলার ছবি তোলে আর তখনই আমাকে ধরে ফেলে।’

শুক্রবারের পোস্টে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, যেকোনো প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ‘শক্তিশালী, অর্থবহ ও প্রমাণিত’ কগনিটিভ পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা উচিত।

তিনি লেখেন, ‘আমাদের মহান দেশ ‘স্ট্যুপিড’ বা অযোগ্য লোকদের দিয়ে চালানো যায় না!’

এটি ছিল তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রতি একটি কটাক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিপর্যয়কর এক বিতর্ক-পর্বের পর প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান, যা ডেমোক্র্যাট নেতার বয়স ও দৃশ্যমান অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।