শিরোনাম

ঢাকা, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কিরিলো বুদানোভকে তার দপ্তরের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে গত নভেম্বরে তাঁর আগের শীর্ষ সহকারী পদত্যাগ করার পর এই সিদ্ধান্ত এলো।
৩৯ বছর বয়সী বুদানোভ ইউক্রেনে এক ধরনের কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানের কৃতিত্ব তাঁর ঝুলিতে বলে মনে করা হয়।
কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমি কিরিলো বুদানোভের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছি এবং তাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।’
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই মনোনয়ন এলো। বুধবার জেলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন, সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি চুক্তি ‘৯০ শতাংশ’ প্রস্তুত।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এই সময়ে ইউক্রেনের প্রয়োজন নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও বেশি মনোযোগ, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নয়ন, পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার ধারায় অগ্রগতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্ষেত্রগুলোতে কিরিলোর বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ফল দিতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতাও তাঁর আছে।’
প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাকে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রো লিতভিন।
নিয়োগ চূড়ান্ত হলে বুদানোভ আন্দ্রি ইয়ারমাকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ইয়ারমাকের বাসায় দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালানোর পর গত নভেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন।
ইয়ারমাক ছিলেন জেলেনস্কির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একজন, তবে কিয়েভে তিনি ছিলেন বিতর্কিত এক চরিত্র। তার বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি বিপুল ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সমালোচনামুখর কণ্ঠগুলোকে নির্মমভাবে সরিয়ে দিতেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই চার বছরের সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।