শিরোনাম

ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী রাজনীতির তরুণ নতুন মুখ জোহরান মামদানি বৃহস্পতিবার শপথ নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর মেয়াদকাল জুড়েই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে এএফপি জানায়, ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত পেরিয়ে ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার পরপরই পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি।
মামদানির কার্যালয় জানায়, সিটি হলের নিচে অবস্থিত ওই সরল ভেন্যুটি কর্মজীবী মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ইস্যুতে প্রচার চালিয়ে নির্বাচিত হন।
শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, ‘এটি সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও গর্বের বিষয়।’
তবে এক বছর আগেও প্রায় অচেনা এই রাজনীতিক ভাড়া স্থগিতকরণ, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা এবং বিনামূল্যের গণপরিবহনসহ তার উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রভাষক জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ‘প্রতীকী বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে সীমিত গুরুত্ব বহন করে। ফলাফল তখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
নিজেও নিউইয়র্কবাসী রিপাবলিকান ট্রাম্প একাধিকবার মামদানির সমালোচনা করেছেন। তবে গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে তাদের বৈঠক ছিল আশ্চর্যজনকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল বলেন, ওই বৈঠকটি ‘মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে যতটা ভালো হতে পারত, ঠিক ততটাই ভালো হয়েছে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দুজনের সম্পর্ক দ্রুতই খারাপের দিকে যেতে পারে।
সম্ভাব্য উত্তেজনার একটি ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন অভিযান। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছেন।
মামদানি অভিবাসী সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
নভেম্বরের ভোটের আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মামদানিকে নির্বাচিত করা হলে নিউইয়র্কের জন্য ফেডারেল অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হবে। সে সময় তিনি মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’ বলে আখ্যা দেন।
মামদানি নিজে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে একজন ফ্যাসিস্ট বলে মনে করেন।
চার বছরের মেয়াদ শুরু করতে মামদানির ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, যিনি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সফলভাবে মামলা করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার পরে একটি আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ।
সিটি হলের বাইরে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মামদানির টিম একটি ‘ব্লক পার্টি’র আয়োজন করেছে, যার মাধ্যমে ব্রডওয়ের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের বড় পর্দায় কয়েক দশ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় মামদানি একাধিক কোরআন ব্যবহার করেছেন—এর মধ্যে দুটি তাঁর পরিবারের এবং একটি পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ লেখক আরতুরো শোমবার্গের ব্যবহৃত।
নতুন দায়িত্বের সঙ্গে তার ঠিকানাও বদলাচ্ছে। কুইন্সের ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে তিনি ম্যানহাটনে মেয়রের বিলাসবহুল সরকারি বাসভবনে উঠছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় ইস্যুতে প্রচার চালানো একজন রাজনীতিক সরকারি বাসভবনে উঠবেন কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মামদানি বলেন, মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি সেখানে উঠছেন।
উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে আসেন।
তুলনামূলকভাবে স্বল্প রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন—নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হওয়ার পর মেয়র নির্বাচিত হন।
অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণে তিনি সাবেক মেয়রদের প্রশাসন ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারের অভিজ্ঞ সহকারীদের নিয়ে নিজেকে ঘিরে রাখছেন।
মামদানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছেন। তাদের কেউ কেউ নির্বাচনে তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে ধনী নিউইয়র্কবাসীদের ব্যাপক প্রস্থান ঘটবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে রিয়েল এস্টেট খাতের নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে সেই আশঙ্কা নাকচ করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই নেতা অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের বিষয়ে ইহুদি সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার চ্যালেঞ্জেও রয়েছেন।
সম্প্রতি তার নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী টুইট করার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর পদত্যাগ করেন।