শিরোনাম

ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সাজা গৃহবন্দিত্বে রূপান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রায়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রাসিলিয়া থেকে এএফপি জানায়, বলসোনারোর আইনজীবীরা বুধবার আবেদনটি দাখিল করেন। এতে বলা হয়, চরম ডানপন্থী এই সাবেক নেতার স্বাস্থ্যের ‘হঠাৎ গুরুতর অবনতি’ ঘটার ‘বাস্তব ঝুঁকি’ রয়েছে। সে কারণে ২৭ বছরের সাজা কারাগারের পরিবর্তে বাড়িতে ভোগ করার অনুমতি চাওয়া হয়।
৭০ বছর বয়সী বলসোনারো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের পর তাকে আবারও চিকিৎসা নিতে হয়, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বারবার হেঁচকি ওঠার সমস্যায় ভুগছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস তার রায়ে বলেন, ‘পক্ষের দাবি অনুযায়ী জাইর মেসিয়াস বলসোনারোর স্বাস্থ্যের অবস্থার কোনো অবনতি ঘটেনি।’
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা এই সাবেক প্রেসিডেন্ট ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেটে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিলতায় ভুগছেন এবং একাধিক বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাতে জানানো হয়েছে, বলসোনারোকে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
এরপর তাকে আবার ব্রাসিলিয়ায় ফেডারেল পুলিশের একটি স্থাপনায় অবস্থিত ছোট একটি কক্ষে ফিরে যেতে হবে, যেখানে তিনি বর্তমানে তার সাজা ভোগ করছেন।
গত সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের পরও ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রের দায়ে বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করে।
নভেম্বরে তার কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দিত্বে ছিলেন।
আদালত এটিকে পালানোর চেষ্টা হিসেবে দেখায়—কারণ তিনি নিজের পায়ে লাগানো ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্রেসলেট একটি সোল্ডারিং আয়রন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এরপর তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।
বলসোনারো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।