শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা শনিবার ৩৭০ ছাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পাদাং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এই সপ্তাহে টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে তিন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিজেদের বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকর্মীরা সুমাত্রা দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে, যেখানে এখনো শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে ২০০ জনের বেশি মারা গেছেন।
পশ্চিম সুমাত্রা আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব গতকাল শুক্রবার রাতে জানান, এ পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরো ৯০ জনের জন্য অনুসন্ধান চলছে। এর আগে প্রদেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৩ বলা হয়েছিল।
দুর্যোগ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, উত্তর সুমাত্রায় আরো ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আচেহ প্রদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা (বিএনপিবি)-এর প্রধান সুহারিয়ান্তো সংবাদ সম্মেলনে জানান, পশ্চিম সুমাত্রায় বৃষ্টিপাত কমাতে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম শুরু হবে। তবে আজ শনিবার অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে গেছে।
আচেহর পিদি এলাকার বাসিন্দা নোভিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পানি নেমে গেছে, কিন্তু পুরো জায়গা কাদায় ভরে আছে। ঘরের অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে বা পড়ে গেছে, এখনো পরিষ্কার করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় মানুষজন একসঙ্গে মিলে কাদা পরিষ্কার করছি।
ফিরদা ইউসরা তার স্ত্রী ও শিশুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে একটি মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে আরো প্রায় ১ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, এখানে যা পাওয়া যাচ্ছে, তাই খেয়ে থাকছি।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সঙখলা প্রদেশে পানির উচ্চতা তিন মিটার (প্রায় ১০ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ১৬২ জন নিহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত হাত ইয়াই এলাকার একটি হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় কর্তৃপক্ষ লাশগুলো রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বন্যায় সৃষ্ট ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যখনই ক্ষতি, মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে, সেটি সবসময় প্রধানমন্ত্রীর দায়।’
থাই সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ঘোষণা করেছে। পরিবারে সদস্য হারানোদের সর্বোচ্চ ৬২,০০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে পানি সরে যেতেই দোকান মালিকরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় নেমেছেন। রাচানে রেমস্রিংগাম নামে এক দোকানদার তার দোকানে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার মধ্যে দিয়ে হাঁটছিলেন। তিনি কয়েক লাখ ডলারের ক্ষতির কথা জানান।
থাই সরকারের বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে এবং দুই স্থানীয় কর্মকর্তাকে ব্যর্থতার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিরোধী পিপল’স পার্টির এক সংসদ সদস্য প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং বন্যা সংকট মোকাবিলায় ভুল করেছে।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বর্ষাকালে থাইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা— যা ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এ বছর একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে এবারকার মৃত্যুর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।