বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:০৮

কৃষ্ণ সাগরে তেল ট্যাংকারে বিস্ফোরণের কারণে অগ্নিকান্ড ঘটেছে : তুরস্ক

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের দুটি তেল ট্যাংকার কোন ডিভাইসে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অগ্নিকান্ড হতে পারে বলে শুক্রবার দেশটির কর্র্র্তৃপক্ষ ধারণা করছে। এই ঘটনার পর তারা ট্যাংকার দুটি থেকে ক্রুদের সরিয়ে নিয়েছে। 

দেশটির সমুদ্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, খালি কাইরোস রাশিয়ার নভোরোসিয়েস্ক বন্দরে যাওয়ার পথে ‘বাহ্যিক কারণে’ তুরস্কের উপকূল থেকে ২৮ নটিক্যাল মাইল (৫২ কিলোমিটার) দূরে আগুন ধরে যায়।

এক্স-এর ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘এই ঘটনায় ২৫ জন ক্রু সদস্যের সকলেই নিরাপদে আছেন।’

জাহাজের তলদেশে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্র দূষণের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

গভর্নর ইলহামি আকতাস বেসরকারি এনটিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কাইরোসে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় কোকায়েলি প্রদেশের কেফকেনের কাছে সন্ধ্যা ৬টায় আগুন ধরে যায়। ।

অধিদপ্তর বলেছে, দ্বিতীয় তেল ট্যাঙ্কারটির নাম ভিরাট। এটি প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আঘাতের ধরণ নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

তারা আরো জানিয়েছে, ‘উদ্ধারকারী দল ও একটি পণ্যবাহী জাহাজকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ২০ জন ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন।’ 

ভেসেলফাইন্ডার ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুসারে, ভিরাট নামের ওই ট্যাংকারও গাম্বিয়ান পতাকাবাহী।

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু এনটিভিকে বলেছেন, ‘বাহ্যিক কারণের অর্থ জাহাজটি একটি মাইন, একটি রকেট বা অনুরূপ প্রজেক্টাইল অথবা কোন একটি ড্রোন অথবা একটি মনুষ্যবিহীন ডুবো যান দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও রাশিয়ান বন্দর থেকে তেল পরিবহনের জন্য দুটি ট্যাঙ্কার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কাইরোস থেকে ২৫ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলও ভিরাটে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের স্বাস্থ্যগত বা নিরাপত্তার কোন ঝুঁকির মধ্যে নেই।’

উরালোগলু আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও দূষণ শনাক্ত করা যায়নি, তবে আমরা আগুনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে বেশ কয়েকটি নৌ মাইন পাওয়া গেছে ও ধ্বংস করা হয়েছে।

উপকূল রক্ষার জন্য উভয় পক্ষের স্থাপন করা মাইনগুলো তখন থেকে, বিশেষ করে ঝড়ের সময় ভেসে গেছে। এ ধরনের বিপদের ফলে, ন্যাটো সদস্য তুরস্ক, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া ২০২৪ সালে একটি নৌ মাইন কাউন্টারমেজারস গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে। এই সবগুলো দেশেরই কৃষ্ণ সাগরে উপকূল রয়েছে।