বাসস
  ২০ মে ২০২৬, ১৬:১৩

ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি তিতুমীরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ফাইল ছবি

ঢাকা, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কারসাজিমূলক আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে জড়িত নিরীক্ষক, মূল্যনির্ধারক, হিসাবরক্ষক এবং অন্য পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) আইনের পূর্ণ ক্ষমতা ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা দিয়েছে।

তিনি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিবেদন : আসলে কী গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট ২০২৬’-ুএ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সমন্বিত উদ্যোগে এফআরসি শীর্ষ সম্মেলনটির আয়োজন করে।

তিতুমীর বলেন, বছরের পর বছর দুর্বল তদারকি, ভুয়া মূল্যায়ন এবং কারসাজিমূলক নিরীক্ষা ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লায়েন্টের দলিল বা সহযোগী হবে না। 
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ খামখেয়ালি আর্থিক বিবরণীর সংস্কৃতির সমালোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আর্থিক ব্যবস্থার কয়েকটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতা চিহ্নিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন তদারকির অনুপস্থিতি, হিসাব ও মূল্যায়ন মানদণ্ডের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন এমন একটি বিকৃত ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে অসাধু প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে, আর প্রকৃত উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পুঁজিবাজারে এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত কারসাজিমূলক আর্থিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন, অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিতুমীর প্রতারণামূলক প্রতিবেদন প্রণয়নকে ব্যাংক খাতের অস্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত করে বলেন, ভুয়া মূল্যায়ন ও জাল আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে বড় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

এফআরসিকে অর্থনীতির প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, নতুন সংস্কার কাঠামোর আওতায় নিরীক্ষক, হিসাবরক্ষক, মূল্যনির্ধারক ও অ্যাকচুয়ারিসহ কোনো পেশাজীবীই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না।

তিনি বলেন, সরকার এখন এমন একটি সুশাসনভিত্তিক বাজার অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তথ্যের ওপর।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, অধিক বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বাংলাদেশকে আর্থিক প্রতিবেদন মান আরো শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল এবং মূলধন প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পেশাগত প্রশিক্ষণ জোরদার এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া সামিটে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, হিসাব পেশাজীবী, নিরীক্ষক, মূল্যনির্ধারক, অ্যাকচুয়ারি এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক বিবরণীর গুণগত মান উন্নয়ন এবং বহিঃনিরীক্ষা ও নিশ্চয়তা কার্যক্রম জোরদার বিষয়ক ব্যবসায়িক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়।