শিরোনাম

ঢাকা, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : মালদ্বীপের গভীর পানির একটি গুহায় ডাইভিং করতে গিয়ে, ইতালীর মৃত পাঁচ ডুবুরির মধ্যে শেষ দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, ‘প্রথম লাশটি ইতোমধ্যেই সহায়ক নৌকায় তোলা হয়েছে। দ্বিতীয় লাশটি একজন ডুবুরি উপরে নিয়ে আসছেন।’
রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হুসেইন শরীফ এএফপিকে বলেন, ‘অবশিষ্ট দুই ডুবুরিকেই গুহা থেকে উদ্ধার করে পানির ওপর আনা হয়েছে।’
গত ১৪ মে ভাভু অ্যাটলে ডাইভিং করতে গিয়ে পাঁচ ইতালীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়।
একজনের লাশ ওই দিনই উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার ৬০ মিটার গভীর একটি গুহা থেকে আরও দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (এমএনডিএফ) এক উদ্ধারকর্মীও শনিবার ডিকম্প্রেশনজনিত জটিলতায় মারা যান।
এমএনডিএফ ডুবুরি স্টাফ সার্জেন্ট মোহাম্মদ মাহুধির মৃত্যুর পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান অভিযান স্থগিত করলে ইতালি আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ইতালির জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, মৃতদের মধ্যে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মনিকা মন্টেফালকোনে, তার মেয়ে জর্জিয়া ও দুই তরুণ গবেষক ছিলেন।
ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরা মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে জানায়, ‘যে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি বৈজ্ঞানিক মিশনের নির্ধারিত কার্যক্রমের অংশ ছিল না। এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছিল।’
পত্রিকাটি আরও জানায়, মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতির আবেদনও ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত মিশনের বাইরে গিয়ে’ করা হয়েছিল।
মালদ্বীপে পর্যটকদের ৩০ মিটারের বেশি গভীরে ডাইভিং করার অনুমতি নেই।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইতালীয় ডুবুরিদের ব্যবহৃত ডাইভ বোটটির পরিচালনা লাইসেন্স স্থগিত করেছে মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ।
ভারত মহাসাগরে বিষুবরেখাজুড়ে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক হাজার ১৯২টি ছোট প্রবাল দ্বীপ ও অ্যাটল নিয়ে গঠিত মালদ্বীপের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত পর্যটন।
দেশটির নির্মল সৈকত, স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশি ও প্রবালপ্রাচীর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ডুবুরি ও স্নোরকেলারদের আকর্ষণ করে। তারা সাধারণত নিরিবিলি রিসোর্ট বা ডাইভ বোটে অবস্থান করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ডাইভিং ও জলক্রীড়া সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল।