শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ভিয়েতনামের হ্যানয়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাস শহরটির স্থানীয় একটি হোটেলে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় হ্যানয়স্থ বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং হ্যানয়ে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং লাখ লাখ বীর শহীদ, সম্ভ্রম হারানো অগনিত মা-বোন এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। অদূর ভবিষ্যতে দেশটিকে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের কাতারে তুলে ধরতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের এই মহৎ অগ্রযাত্রায় আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
তিনি বাংলাদেশের সাথে গভীর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ভিয়েতনামের বন্ধুপ্রতিম জনগণ এবং সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো জোরদার করার জন্য একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুয়েন মান কুওং স্বাধীনতার বিগত ৫৫ বছরে অর্জিত অসাধারণ সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উনয়ন বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আজ অনুকরণীয়। বিশ্ববাজারে পোশাক শিল্পে নেতৃত্ব প্রদান, বিশ্বের অন্যতম ওষুধ রপ্তানিকারক এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে এবং শীঘ্রই তা ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের সমন্বয়ে নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্যসমূহ প্রদর্শন করে একটি প্রদর্শনীও করা হয় এবং এটি উপস্থিত অতিথিদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।