শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ও অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়।
টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিবসের প্রথম পর্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে চ্যান্সারি মিলনায়তনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ২৬ মার্চ উপলক্ষে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় পর্বে টোকিওর ঐতিহ্যবাহী হোটেল নিউ ওতানির ‘হো হল’-এ এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুনিমিতসু আয়ানো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুনিমিতসু আয়ানো বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জাপান বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানায়। আমরা নবগঠিত সরকারের সাথে আমাদের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরো সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এই দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে। জাপান বাংলাদেশের সাথে এই সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনে ধারাবাহিকভাবে পাশে আছে।
দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গভীর বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সুসম্পর্ক এখন কেবল উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে শুরু করে জনগণের মেলবন্ধন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী দিনে এই বন্ধুত্ব আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে জাপানের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রেসিডেন্ট তারো আসোর একটি লিখিত বার্তা পাঠ করা হয়। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সন্ধ্যার এ আয়োজনে জাপান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় এবং তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।