বাসস
  ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩২

স্বাধীনতা দিবসে কক্সবাজার সৈকতে উৎসবের আমেজ

ছবি : বাসস

ইব্রাহিম খলিল মামুন

কক্সবাজার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বইছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। নীল জলরাশি আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নেমেছে। 

পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা সাগরের ঢেউয়ে স্নান করে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন। এতে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ঈদ আনন্দ শেষ হতে না হতেই মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। তাই টানা ছুটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সাগর তীরজুড়ে যেন সব বয়সী মানুষের মিলনমেলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা সাগরের ঢেউয়ে স্নান করে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন। কেউ হাঁটছেন বালিয়াড়িতে, কেউবা ছবি তুলছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। দীর্ঘ ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে খুশি পর্যটকরা।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারে এসে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি। ইনানি সৈকতসহ আশপাশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানে গিয়েছি।

পরিবার নিয়ে এসেছি, খুব ভালো সময় কাটছে। বুধবার এসেছি, আরও দু’দিন থাকার পরিকল্পনা আছে। সব মিলিয়ে দারুণ উপভোগ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু এই সৈকতই নয়, আশপাশে আরও অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে। প্রতিটি জায়গার আলাদা সৌন্দর্য আছে, তবে সুগন্ধা বিচে এসে আমরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই।’

রাবেয়া খাতুন নামে আরেক পর্যটক বলেন, ‘এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। অনেক মানুষের উপস্থিতি পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটাতে সত্যিই ভালো লাগে।’

আহসানুল হক খান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। সবাই মিলে খুব আনন্দ করছি। পরিবেশটা সুন্দর, সময়টা দারুণ কাটছে-পুরো ভ্রমণটাই উপভোগ করছি।’

এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সাগর তীরজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে লাইফ গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। নেওয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয়।

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ব্যবস্থাপক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ঈদ পরবর্তী মহান স্বাধীনতা দিবসে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা ৩ স্তরের ব্যবস্থা নিয়েছি। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বালিয়াড়িতে টহল ও বোট নিয়ে পানিতেও অবস্থান করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এখানে একাধিক পুলিশ বক্স, মোবাইল টিম এবং স্টেশনভিত্তিক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

ঈদ, স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বার্মিজ পণ্যের মার্কেটগুলোতে জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের পরদিন থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ৫ দিনে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন অন্তত ৭ লাখ পর্যটক। আগামী শনিবার পর্যন্ত আরো দুই লাখ পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে।