শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় হাম-রুবেলা নির্মূল কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে চলমান গণটিকাদান কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে টিকা কাভারেজ বাড়াতে ১০৪ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ডিএনসিসি এলাকায়ও জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ১২ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত ১৪ দিনব্যাপী এই কর্মসূচির অধীনে ডিএনসিসিতে মোট ৫৯৯টি টিকাদান কেন্দ্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি স্থায়ী, ৫০২টি অস্থায়ী, ৩৫টি বৈকালিক এবং ৮টি শুক্রবারভিত্তিক কেন্দ্র।
ডিএনসিসির তথ্যমতে, ১২ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৮ শতাংশ।
ক্যাম্পেইনে কোনো শিশুই যাতে টিকার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে ডিএনসিসির ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ডিএনসিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে টানা ১১ দিন।
এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ-এর ‘ডিজাস্টার রেসপন্স ইমারজেন্সি ফান্ড (ডিআরইএফ)’ সহায়তায়। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে-কমিউনিটি পর্যায়ে বাদ পড়া, ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী, পথশিশু ও ভ্রাম্যমাণ শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিএনসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের ৫০টি নির্বাচিত টিকাদান কেন্দ্রে মোট ১২৪ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্রে শিশুদের জন্য বিশেষ ‘শিশু-বান্ধব কর্নার’ স্থাপন করা হবে, যাতে শিশুদের জন্য টিকাদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।
এছাড়া, হামের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ডিএনসিসির বিভিন্ন বিলবোর্ডে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪টি ওয়ার্ডে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি রাজধানীতে হাম-রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।