শিরোনাম

বাগেরহাট, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস): ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, চিকিৎসক সংকট, বন্ধ ল্যাব ও এক্সরে ইউনিটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত জেলার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। পরিত্যক্ত ভবনে চলছে রোগীদের চিকিৎসা। চিকিৎসার অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল চালু হওয়া ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম বর্তমানে চলছে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে কোনো মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট না থাকায় ল্যাব টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীদের ১৭ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাট অথবা এলাকার ছোট প্যাথলজিতে ছুটতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের মূল ভবন ও কোয়ার্টারগুলো অকার্যকর হওয়ায় আবাসিক চিকিৎসক ও রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট এতটাই প্রকট যে, ২৯টি প্রথম শ্রেণির চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। ২৬টি পদই দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে আছে। প্যাথলজি ও এক্সরে ইউনিটও বন্ধ রয়েছে জনবল ও যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে।
জরুরি অপারেশন ও সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অপারেশন বর্তমানে বন্ধ। জেনারেটর থাকলেও মেরামত না হওয়ায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। সৃষ্টি হয় ভুতুড়ে পরিবেশ। অপর্যাপ্ত জনবলও হাসপাতালের সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৬৩টি সরকারি পদের মধ্যে ৬১টি পদ খালি। সরকারি নৈশপ্রহরী না থাকায় রোগীদের নিরাপত্তায়ও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। রোগীদের অভিযোগ, ওয়ার্ডবয়ের পদে একজন থাকলেও তিনি পুরো সময় হাসপাতালে থাকেন না। হাসপাতালের নিভৃত পরিবেশ নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন জরুরি ও বহি :বিভাগে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে ভর্তিকৃত রোগীদের অনেকেই ৪-৫ দিন থেকেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পান না।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে সব পদ শূন্য রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু, চক্ষু, মেডিসিন, শল্য, অর্থো, কার্ডিওলজি, ইএনটি, চর্ম ও যৌন), প্যাথলজিস্ট, অ্যানেসথেসিস্ট, আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল অফিসারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ। এছাড়া মঘিয়া ও গোয়ালমাঠ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুইজন মেডিক্যাল অফিসার এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে সাতজন সহকারী সার্জনের পদও খালি রয়েছে।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান মাহমুদ বাসসকে বলেন, ‘মূল ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় আমরা অতিরিক্ত ভবনের বারান্দা ও বাইরে রোগীদের রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা মাত্র তিনজন ডাক্তার হাসপাতালটিকে কোনোভাবে চালিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমাধান হয়নি।’
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স. মো. মাহবুবুল আলম বাসসকে বলেন,‘চিকিৎসক সংকট বিষয়ে আমরা বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। নতুন ডাক্তার নিয়োগ হলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে বলে আশা করছি।’