শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস) : তারুণ্যের উৎসবের মাধ্যমে মোবাইল-কম্পিউটারে আসক্ত তরুণ প্রজন্ম খেলার মাঠে ফিরেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সাবেক খেলোয়াড় ও টিম লিডার মো. সাইফুল্লাহ সিফাত।
তার মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের পুনরায় খেলাধুলার মাঠে ফেরাতে অনেক বড় অবদান রেখেছে তারুণ্যের উৎসব। এটি দেশের খেলাধুলায় অনেক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল ডিভাইস- স্মার্টফোন, কম্পিউটার-ল্যাপটপের প্রতি অনেক বেশি নির্ভরশীল ও আসক্ত হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। এই প্রজন্ম ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কল্পনা করতে পারে না। যা এই প্রজন্মের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ায়, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ নেই তরুণ প্রজন্মের। এসব তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সারাদেশে তারুণ্যের উৎসব কর্মসূচি শুরু হয়। যা এখনও চলমান।
সরকারের এমন উদ্যোগে উচ্ছসিত ইন্টারন্যাশনাল সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের প্রথম কোচ এবং বিচারক সিফাত।
বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারুণ্যর উৎসব খুবই ভাল একটি উদ্যোগ। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ডিভাইসমুখি হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে বড় অবদান আছে তারুণ্যর উৎসবের।’
তারুণ্যের উৎসব নিয়মিত আয়োজন করা উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাইফ গার্ড মাস্টার ট্রেইনার সিফাত, ‘খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ফিট রাখে। খেলাধুলা থেকে দূরে থাকলে তরুণ প্রজন্ম আনফিট হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে তারুণ্যর উৎসব তরুণদের জন্য খুব পজিটিভ সাইন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটি নিয়মিত করলে দেশের জন্যই ভাল হবে।’
তারুণ্যর উৎসবে মেতে উঠেছিল সার্ফাররাও। সরকারের এমন আয়োজন উপভোগ করেছে সার্ফাররা। তবে সার্ফিংয়ের প্রতি অ্যাথলেটদের আগ্রহী করে তুলতে সরকারের সহযোগিতা দরকার বলে জানান ২০২২ সাথে ইতালি ও ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য লাইফ সেভিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেকনিক্যাল অফিসিয়ালের (রেফারি) দায়িত্ব পালন করা সিফাত, ‘সার্ফিং ইভেন্টে সরকারের সহযোগিতা দরকার। যাতে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করা যায়। আমাদের ইভেন্ট তো ইনডোর ভিত্তিক না, আউটডোরে হয়ে থাকে। এখানে খেলোয়াড়দের খাবার-যাতায়াত সুবিধা, আর্থিক সহায়তা দরকার। আমাদের ইকুইপমেন্টও নাই। আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করছি। ইকুইপমেন্ট বেশি থাকলে আমাদের অ্যাথলেট সংখ্যাও বাড়বে এবং সবার আগ্রহ বাড়বে। ট্রেনিং ক্যাম্প নিয়মিত করতে হলে আর্থিক সুবিধা দরকার।’
আন্তর্জাতিক মানের সার্ফার হতে গেলে দেশের বাইরে গিয়ে অনুশীলন করা উচিত বলে মনে করেন সিফাত। এজন্য আর্থিক সহযোগিতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি, ‘আন্তর্জাতিক মানের হতে হলে আমাদের দেশের বাইরে গিয়ে অনুশীলন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের যে মানদন্ড আছে, ইন্দোনেশিয়া-মালদ্বীপ-জাপানের ঢেউগুলো সেই পর্যায়ের। আমাদের দেশের ঢেউ অন্যান্য দেশের তুলনায় ছোট। অন্যান্য দেশের ফেডারেশন তাদের অ্যাথলেটদের বড় ঢেউয়ে অনুশীলনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করে থাকে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- আর্থিক সমস্যা। আমাদের অ্যাথলেটদের নিয়ে দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন করা যাচ্ছে না। সেখানে অ্যাথলেটদের বিদেশে নিয়ে অনুশীলনের খরচ অনেক বেশি। এজন্য আমি ফেডারেশনের সাথে বিভিন্ন সময় পরিকল্পনা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেরকম সাড়া পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক সহায়তা না পেলে অ্যাথলেটদের গড়ে তোলা সম্ভব না। দেশের ভেতর কঠোর অনুশীলন করলেও কোন উপকার আসবে না। কারণ আমাদের অ্যাথলেটদের পারফর্ম করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ঢেউয়ের সাথে। আমাদের অ্যাথলেটরা আন্তর্জাতিক মানের ঢেউয়ের সাথে পারফর্ম করার মত যোগ্য। কিন্তু অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা নেই। এছাড়াও আন্তর্জাতিকভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে, অনেক ধরণের সহযোগিতা দরকার হয়। জাতীয় কোচ প্রয়োজন, অ্যাথলেটকে ডিসিপ্লিনের মধ্যে এনে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারন করে একটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের জন্য তৈরি করা দরকার।’
ভারতের তামিলনাড়ুতে ‘চতুর্থ এশিয়ান সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ১৮ দেশের মধ্যে নবম হয়ে প্রথমবারের এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছে বাংলাদেশ সার্ফিং দল। ২০২৬ সালে জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে সরাসরি অংশ নেবে লাল-সবুজের তরুণ সার্ফাররা।
২০২৬ সালে মরক্কোতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ লাইফ সেভিংয়ে অংশ নেওয়া আরও একটি প্রধান লক্ষ্য সার্ফারদের।