বাসস
  ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪

রাজবাড়ীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার দাবি মিথ্যা বলে শনাক্ত : বাংলাফ্যাক্ট

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাজবাড়ীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার দাবি মিথ্যা ও ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, রাজবাড়ীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার যে দাবি করা হচ্ছে তা সত্য নয়; মূলত প্রচারিত ভিডিওটি ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি ঘটনার।

বাংলাফ্যাক্ট আরও জানায়, ‘রাজবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার অভিযান পরিচালনার সময় নারী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হকারদের হামলা’—এমন একটি দাবি করে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান করে দেখেছে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ভুক্তভোগী নারী কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নন; তিনি একজন ব্যবসায়ী। ভিডিওটি রাজবাড়ীর কাদেরিয়া মার্কেটের ওই নারী ব্যবসায়ী ও তার সাবেক এক নারী বিক্রয়কর্মীর অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার।

ঘটনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বাংলাফ্যাক্টকে জানান, “তিনি একজন ব্যবসায়ী। রাজবাড়ীর কাদেরিয়া মার্কেটে তিনি নারীদের প্রসাধন ও পোশাক বিক্রি করেন। ওই নারী ব্যবসায়ীর সাথে তার দোকানের বিক্রয়কর্মীদের নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হতো। অভিযোগ রয়েছে, তার বিক্রয়কর্মীদের অন্য দোকানদারেরা বেশি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যেতেন। সম্প্রতি এক নারী বিক্রয়কর্মী চাকরি ছেড়ে চলে গেলে তাঁর সাথে ওই নারী ব্যবসায়ীর তর্ক-বিতর্ক ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তিনি মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ আগস্ট ওই নারী ব্যবসায়ী তার দলবল নিয়ে প্রতিবাদ বা মানববন্ধন করতে গেলে মার্কেটের লোকজনের সাথে তাঁর গোলযোগের সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে রাতে তার স্বামী এসে তাকে বাসায় নিয়ে যান।

ঘটনাটি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি সম্পূর্ণ রূপেই ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে সৃষ্ট একটি ঘটনা।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও নানা গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-র একটি ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল ও অপতথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের এই ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাফ্যাক্ট।