শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): বিএনপি নেতাদের নামে ভুয়া ও মিথ্যা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধান টিম জানায়, ফেসবুকে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে,‘কুমিল্লা সদর আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এমপি নারীসহ আটক।’ অন্যটিতে দাবি করা হচ্ছে, এটি জনৈক বিএনপি নেতার নারী নিয়ে করা ভিডিও।
অনুসন্ধান টিম জানায়, ফেসবুকে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ‘কুমিল্লা সদর আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এমপি নারীসহ আটক।’ এই ভিডিওতে মনিরুল হককে এক নারীর কাঁধে হাত দিয়ে রাখতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে কোনো বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ না করে দাবি করা হচ্ছে, এটি জনৈক বিএনপি নেতার নারী নিয়ে করা ভিডিও।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দ্বিতীয় ভিডিওটি এক আওয়ামী লীগ নেতার এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি ২০২১ সালের। আবার মনিরুল হকের ঘটনাটি মূলত গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। সেই ঘটনার পর ৮ মে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সাথে দেখা করেন তিনি। সেই সময়কার ভিডিও এটি।
মনিরুল হকের দাবিটির সত্যতা যাচাই: ভিডিওটির কিছু কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চে নিউজ২৪-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ৯ মে পোস্ট করা একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওটির সঙ্গে মনিরুল হককে নারীসহ আটক দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
পোস্টটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বৈরাগীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। এই সময় তিনি বৈরাগীর স্ত্রীর হাতে কাঁধ রেখে মিডিয়ার সামনে কথা বলেন।
কুমিল্লার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কুমিল্লার কাগজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মনিরুল হক চৌধুরীর এই মানবিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন রয়েছে।
এছাড়া অন্য ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চে ঢাকা পোস্টে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে বিএনপি নেতার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, রাজধানীর সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাসকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এর আগে আপত্তিকর এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একই তথ্য ও ছবি পাওয়া যায় বার্তা২৪, আরটিভিতে ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বিএনপি নেতা নন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এসব ফলাফলের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।