বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ১২:১১

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেত্রীকে নির্যাতনের দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার শনাক্ত 

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস): নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে ছাত্রদল নেতারা নির্যাতন করছে-এমন দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, একজন নারীকে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে নিয়ে যাচ্ছে, সম্প্রতি এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেত্রীকে রাজধানীতে মব করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদলের নেতারা ।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের বিহার রাজ্যের। নারী নির্যাতনের ওই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে বিহারের পুলিশ। ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে এক্সে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। গত ৩১ মার্চের পোস্টে একটি ঝাপসা ভিডিও আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘বিহারের নালন্দায় একদল ব্যক্তি দোকান থেকে ফেরার পথে এক নারীকে ধরে নিয়ে যায়, তাকে রাস্তায় ঘোরায়, শারীরিক নির্যাতন করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।’

ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, সবদিক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। বানোয়াট ক্যাপশনের কারণে ভাইরাল পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। 

সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।

দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।