শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস): সোনালী ব্যাংক ন্যানো লোনের নামে ভুয়া ওয়েবসাইটে অগ্রিম টাকা আদায় শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক ন্যানো লোনের নামে ভুয়া ওয়েবসাইটে অগ্রিম টাকা আদায় এবং ফেসবুকে একাধিক বিজ্ঞাপনে সোনালী ব্যাংকের ন্যানো লোন সার্ভিসের প্রচারণা করা হচ্ছে।
ভিডিওগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, যে কোনো ব্যক্তি সোনালী ব্যাংকের ন্যানো লোনের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপনের ভিডিওগুলোতে দেখানো হয়, কীভাবে তাদের ওয়েবসাইটগুলোতে নিবন্ধন করে লোন নেওয়া সম্ভব।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভিডিওগুলো এডিটেড। এর মাধ্যমে লোন নেওয়ার আগে সার্ভিস চার্জের নামে আর্থিক প্রতারণার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে ‘সোনালী ব্যাংক ন্যানো লোন’ এবং ‘ন্যানো লোন’ এমন কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ফেসবুকে খোঁজ করা হয়। এতে ফেসবুকে ও মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে প্রচারিত কিছু বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপনের ভিডিওগুলোতে সোনালী ব্যাংকের ডিজিটাল লোন প্রক্রিয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের কমেন্টবক্সে যুক্ত লিংকে নানা ধরনের ওয়েবসাইটের ঠিকানা রয়েছে।
ভিডিওর প্রথম অংশে একজন ব্যক্তি বলেন, এখন ঘরে বসেই সোনালী ব্যাংকের এই লোন নিতে পারবেন।
ভিডিওটির পরের অংশে দেখানো হয় কী উপায়ে মোবাইল দিয়ে কমেন্টে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করতে হবে।
শেষে দেখানো হয়, কিভাবে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে লোনের আবেদন করতে হবে।
ওয়েবসাইটগুলোতে ঢুকলে প্রথমে ব্যবহারকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে বলা হয়। এরপর লোনের আবেদন করতে হলে বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠাতে বলা হয়। টাকা পাঠানোর পরেও লোন পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
দাবিকৃত বিজ্ঞাপনগুলো মেটার নিজস্ব নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। মেটার প্রতারণা ও জালিয়াতি বিরোধী নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লোন বা আর্থিক সহায়তার নামে অগ্রিম অর্থ দাবি করা অনুমোদিত নয়।
ফ্যাক্টওয়াচ এই বিজ্ঞাপনগুলোকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে।
সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে এসব অপতথ্য ছড়ানো হয়।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ সে সব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।