বাসস
  ০৪ জুন ২০২৬, ১৫:৩৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন হয় গোপন ব্যালটে : ফ্যাক্টওয়াচ

ঢাকা, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন হয়েছে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে, এখানে কোন দেশ কাকে ভোট দিলো তা জানা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, জাতিসংঘের নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তান, বিপক্ষে ভারত দাবিটি কি সত্য? তা শনাক্তের বিষয়টি অনুসন্ধান করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সাইপ্রাসের কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসের বিপক্ষে নির্বাচন করে তিনি জয় লাভ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত। কোনো কোনো পোস্টে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটের ক্ষেত্রে আরও কিছু দেশের নামও যোগ করা হয়েছে।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয় গোপন ভোটের মাধ্যমে। কোন দেশ কার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সেটি জানা যায় না। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সংস্থাটির কার্যবিধির ৯২ নম্বর বিধান অনুসারে, নির্বাচন গোপন ভোটে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থীদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ব্যবস্থা থাকবে না।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত গোপন ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট এবং মি. কাকোরিস ৯১ ভোট পান। মোট ১৯০টি বৈধ ভোট পড়ে; কোনো ভোট বাতিল হয়নি এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত থাকেনি।’ প্রতিবেদনটিতে খলিলুর রহমান বা কাকোরিসকে কারা ভোট দিয়েছেন এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাতিসংঘের কার্যবিধি অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তে একমত না হলে নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে একজন প্রার্থীকে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের ভোটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হয়।

এই প্রতিবেদনেও খলিলুর রহমানকে পাকিস্তানের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।

পরবর্তীতে আরও খোঁজে জাতিসংঘের কার্যবিধি সম্পর্কিত বিধানগুলো পাওয়া যায়। বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন গোপন ভোটে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থীদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ব্যবস্থা থাকবে না বা সভাকক্ষে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব বা সমর্থন করার কোনো প্রক্রিয়া নেই; সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পক্ষে কে ভোট দিয়েছে বা বিপক্ষে কে ভোট দিয়েছে সেটি জানা সম্ভব নয়। যেহেতু ভোট হয় গোপন ব্যালটে।

এছাড়া যারা এই দাবিটি করছেন তারাও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ দিচ্ছেন না। অর্থ্যাৎ, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই প্রতীয়মান হয়। তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।

দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।