শিরোনাম

ঢাকা, ৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াত ও বিজেপির একতরফা জয় দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ম্যাপকে বিভ্রান্তিকর বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র ও ভুল তথ্য ব্যবহার করে গেরুয়া-সবুজ রঙের এই ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ম্যাপটিতে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশে জামায়াত এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভ করেছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই হিসাব অবাস্তব ও মিথ্যা।
ফ্যাক্টচেক টিম বলছে, ম্যাপটিতে বাংলাদেশের ১৯টি জেলাকে সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে দেখিয়ে সব জেলায় জামায়াত জয়ী হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব জেলা সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নাটোর জেলায় জামায়াত কোনো আসনেই জয়ী হয়নি। এছাড়া নওগাঁ, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বিএনপি বেশি সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে।
বাংলাফ্যাক্ট আরও জানায়, উল্লিখিত ১৯টি জেলার মধ্যে মাত্র চারটিতে জামায়াত সব আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ম্যাপটিতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে ‘দাগিয়ে’ সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও আপত্তিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা বলছে, মানচিত্র হিসেবেও ম্যাপটি সঠিক নয়। কারণ এতে গাইবান্ধা, নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জকে সীমান্ত জেলা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদিও এগুলো দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ জেলা।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ম্যাপটিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাফ্যাক্ট। সেখানে ১১টি জেলার কথা উল্লেখ করা হলেও কেবল দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির সব আসনে বিজেপির জয় দেখানো হয়েছে। বাকি ৯টি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য দলও একাধিক আসনে জয় পেয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টাও শনাক্ত করা হচ্ছে।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম। তারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
বাংলাফ্যাক্ট ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে।