শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): কক্সবাজার সদর উপজেলায় মন্দিরের সেবায়েত নয়ন দাশের মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন না হলেও কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলায় মন্দিরের সেবায়েত নয়ন দাশের মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার শনাক্ত করা হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মন্দিরের এক সেবায়েতের লাশ গতকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের বা মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম ও এক্সের কিছু হ্যান্ডেল।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন সেবায়েত নয়ন দাশ (৩৫)। খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে নয়ন দাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনাটিকে ‘নির্বাচনের পর প্রথম হিন্দু হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই ধরণের প্রতিবেদন করে দেশটির আরেকটি গণমাধ্যম নিউজ নাইন। সামাজিক মাধ্যম এক্সের ভারত থেকে পরিচালিত কিছু হ্যান্ডেলেও এটিকে মন্দির থেকে অপহরণ ও সাম্প্রদায়িক হত্যা হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নয়ন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিল, নয়ন দাসকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর তিনি ফেরেননি। কিন্তু কে বা কারা ডেকে নেয়, তা পরিবার জানাতে পারেনি। পরে পুলিশ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, পরিবার জানায়, নয়ন দাস নিজেও বের হয়ে থাকতে পারেন। অর্থাৎ, পরিবারই এখনো নিশ্চিত নয় নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল।
হিমেল রায় আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, বা কাউকে সন্দেহের কথা জানানো হয়নি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা’র কথা বললেও, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠন, কারও পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং কেউ এটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে ইঙ্গিতও দেননি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের আগেই, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া টুডে এর আগেও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে অপতথ্য প্রচার করেছে। ঢাকায় একজন মুসলিম ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাকেও ‘হিন্দু হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে প্রচার করেছে, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার করেছিল ইন্ডিয়া টুডে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।