বাসস
  ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬

ভারতে গর্ভবতী নারীকে হেনস্তার ঘটনাকে ঢাকার বলে অপপ্রচার: ফ্যাক্টওয়াচ

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): ভারতের জয়পুরে এক গর্ভবতী নারীকে হেনস্তার ঘটনাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বলে অপপ্রচার করা হয়েছে। গুজব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির এই অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, ফেসবুকে সম্প্রতি এক নারীকে হেনস্তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, পহেলা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে এক গর্ভবতী নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ঘটনাটি ঢাকার নয়; এটি ভারতের জয়পুরের। গর্ভবতী নারীকে হেনস্তার ওই ঘটনায় তদন্তে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান টিম জানায়, গত ১৩ এপ্রিল আপলোড করা একটি ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘জয়পুরের মালভিয়া নগরে একজন গর্ভবতী নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এতে নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে খুঁজছে, তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।’ ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে এ ভিডিওর মিল পাওয়া গেছে।

প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ২৫ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে জয়পুরের মালভিয়া নগরের সেক্টর-৯-এর একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি পেছন থেকে এসে ওই নারীকে শ্লীলতাহানি করে। নারীটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পাথর দিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত স্থিরচিত্র ভিডিওটির সঙ্গে মিলে গেছে।

ফ্যাক্টওয়াচ আরও জানায়, এ ঘটনায় আবার নতুন করে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কারণ, গত ১২ এপ্রিল মামলার তদন্তে অবহেলার অভিযোগে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মহেশ চাঁদ ও হেড কনস্টেবল অঙ্গদরামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সুতরাং, ঘটনাটি পহেলা বৈশাখে মোহাম্মদপুরের নয়; বরং গত মার্চে ভারতের জয়পুরে ঘটেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে এসব অপতথ্য সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে।

দেশে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। এটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিত এসব বিষয় যাচাই করে সত্য তথ্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।