শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের সংবাদ পরিবেশনে বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ঢাকার পল্লবীতে যৌন সহিংসতার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার এক শিশুর ছবি ও পরিচয় দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা কতটা মানা হচ্ছে?
তারা জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ পায়- এমন কোনো সংবাদ, তথ্য, নাম-ঠিকানা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য সংবাদপত্র, যেকোন সংবাদমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না।
আইনে এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট আরও জানায়, নারী ও শিশু ভিকটিমের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২১ সালের ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিট আদেশে স্পষ্ট করেন, ‘ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার কোনো নারী বা শিশু জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই তার ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।’
এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরার ধর্ষণ মামলায় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শিশুর ছবি তাৎক্ষণিক অপসারণের নির্দেশ দেন।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ইউনিসেফ ও গায়া ভিজ্যুয়ালের যৌথ এক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, ভিকটিম শিশুর প্রকৃত নাম ও ছবি প্রকাশ সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। ভিকটিম জীবিত বা মৃত- উভয় ক্ষেত্রেই তার পরিচয় গোপন রাখা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ হলো পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম। তারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। পাশাপাশি গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতেও কাজ করছে বাংলাফ্যাক্ট।