শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের নির্বাচন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি বলে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস ব্রিফিং দাবিতে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ক্যাপশনে তার বক্তব্য দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের জন্য আমি ইউনূসের কাছে দুইজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। আমি জানতে পেরেছি ইউনূস আমার দুইজন প্রতিনিধিকে অসম্মান করেছে। ইউনূসকে আমি সতর্ক করছি, কথা না শুনলে তাঁর অবস্থা মাদুরোর মতো হবে। কথা না শুনলে আমি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আদেশ করবো ইউনূসকে সরানোর জন্য। ইউনূসের প্রতি এটাই আমার শেষ বার্তা।’
কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে প্রেস ব্রিফিংয়ের এই ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের একটি বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্য এটি। সেখানে তিনি ড. ইউনূস সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি। মূল ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি অডিও যুক্ত করে বিকৃত করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান শনাক্ত হয় যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ইউএসএ টুডের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি আপলোডকৃত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সঙ্গে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত কি-ফ্রেম মিলে যায়।
ভিডিওর ক্যাপশনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করা হয়, ‘চীন, রাশিয়া সম্পর্কে ডেনমার্ক কিছুই করতে পারে না।’ এরপরে প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের সম্পূর্ণ ভিডিও খুঁজে পায় ফ্যাক্টওয়াচ টিম। হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওটি পর্যালোচনা করে সেখানে ড. ইউনূস সম্পর্কে কোনো কথার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি মূলত ছিল ট্রাম্পের ‘হোল মিল্ক ফর হেলদি কিডস অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামের একটি বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময়। এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল বিলটিকে আইনে রূপান্তর করা।
ট্রাম্প এই বিল ছাড়াও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খাদ্যমূল্য, ইরান, ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
অন্যদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি খেয়াল করলে ট্রাম্পের কণ্ঠস্বর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া শুরুর দিকে চেহারায় মুখের আশেপাশের ত্বকে ভাঁজ দেখা গেলেও পরে সেগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। অন্যদিকে, মূল ভিডিওতে থাকা অডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা অডিওর ভিন্নতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে এআই ডিটেকশন টুল ‘ডিপফেক ও মিটার’ দিয়ে ভিডিওটি যাচাই করা হয়। টুলটি বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে অডিওটি বিশ্লেষণ করে জানায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। মূল ভিডিওর অডিও সরিয়ে দিয়ে এআই দিয়ে তৈরি অডিও যুক্ত করে ভাইরাল ভিডিওটি বানানো হয়েছে। পাশাপাশি এআই এর সাহায্যে ট্রাম্পের অঙ্গভঙ্গিরও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এ ছাড়া ফ্যাক্টওয়াচের বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এমন অনেক টুল পাওয়া যায়, যেসব টুলের মাধ্যমে এমন অডিও বানানো সম্ভব।
ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির নিয়ে দাবিকৃত ভিডিওটি বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।