বাসস
  ২১ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৬

প্রিয় গানের গল্প শোনালেন বিটিএস ভক্তরা

ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): বিশ্বের জনপ্রিয়তম বয় ব্যান্ড ‘বিটিএস’ দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের প্রাণকেন্দ্রে তাদের এই বহুল প্রতীক্ষিত ‘কামব্যাক’ কনসার্টটি খোলা আকাশের নিচে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। 

আশা করা হচ্ছে যে কনসার্টটিতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের সমাগম হবে। অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। খবর এএফপি’র।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের কারণে দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিরতির পর ব্যান্ডের সাত সদস্য আবার ফিরছেন। এই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে এএফপি ভক্তদের কাছে জানতে চেয়েছিল বিটিএস-এর কোন গানটি তাদের সবচেয়ে প্রিয় ও কেন?

‘স্প্রিং ডে’
২০১৭ সালের জনপ্রিয় এ গানটি শীতের তীব্রতা শেষে প্রিয়জনকে পাওয়ার আকুলতা নিয়ে তৈরি। 

৪৫ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক সুং ইয়ং-রোক জানান, গানটি তার হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। পেশায় একজন ঐতিহ্যবাহী কোরীয় চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি প্রায়ই ‘প্লাম ব্লসম’ বা বরই ফুল আঁকেন। ফুলটি কোরীয় ঐতিহ্যের চারটি ‘অভিজাত উদ্ভিদের’ একটি, যা হাড় কাঁপানো শীত সহ্য করেও টিকে থাকার ক্ষমতা এবং আশা ও ধৈর্যের প্রতীক হিসেবে সমাদৃত।

কাকতালীয়ভাবে সুং তার আঁকা ছবিগুলোর শিরোনামেও প্রায়ই ‘স্প্রিং ডে’ বা বসন্তের দিন শব্দ দুটো রাখতেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বসন্তের অপেক্ষায় থাকা একজন মানুষ। এই গানের কথাগুলো শুনে আমার মনে হয়েছে, তারা যেন আমার নিজের জীবনের গল্পই বলছে।’

সুং আরও জানান, গানের কথাগুলোর মধ্যে থাকা এক ধরনের আন্তরিকতা, একে তার কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত করে তুলেছে।

‘ম্যাজিক শপ’
মালয়েশিয়ার ৩২ বছর বয়সী ভক্ত কারমেন লো জানান, ২০১৮ সালের এ গানটি কঠিন জীবনের সময়ের মানবিক বন্ধন নিয়ে লেখা। মূলত বিটিএস ভক্তদের উৎসর্গ করে গাওয়া গানটি তার জন্য বড় এক সান্ত্বনার উৎস। বিশেষ করে গানের এই কথাগুলো তার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে— ‘যে দিনগুলোতে নিজেকে নিজেরই ঘৃণা লাগে, যেদিন মনে হয় চিরতরে হারিয়ে যাই, চলো সেদিনই তোমার মনের ভেতর একটি দরজা তৈরি করি— সেই দরজাটি খুললেই দেখবে যে এই জায়গাটি তোমার অপেক্ষায় আছে।’

লো এএফপি’কে বলেন, তার কাছে এই গানটি নিজের ভেতর থাকা একটি শান্ত ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে জীবন যখন ভারী ও অসহনীয় মনে হয়, তখন ফিরে আসা যায়। 

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিএস-কে খুঁজে পাওয়াটা আসলে অন্য রকম কিছু একটা আবিষ্কার করার মতো— যেখানে আমরা আচমকা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়াই, যা আমাদের বোঝে, সংগ্রামগুলোকে স্বীকৃতি দেয় ও আলতো করে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে আমরা একা নই।’

‘অ্যানসার: লাভ মাইসেলফ’
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ বছর বয়সী গিগি জেপমিসেল জানান, ২০১৮ সালের এ গানটি মূলত নিজে যা- তা মেনে নেওয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গানটি আত্মক্ষমা, সহনশীলতা ও সততার সঙ্গে নিজের অতীতকে মেনে নেওয়ার বিষয়গুলোকে তুলে ধরে। 

তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘আমি শিখেছি যে আমি প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছি। আমি যেমন তেমনটা হওয়া যেমন ঠিক আছে, তেমনি আমি যা নই— তা না হওয়াটাও ঠিক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিএস-এর গান কেবল আমাকে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসই দেয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মও দিয়েছে।’

‘মাইক্রোকসমস’
কানাডার ৪১ বছর বয়সী ভক্ত ইয়ংজু শোন জানান, ২০১৯ সালে রিলিজ হওয়া আত্ম-উপলব্ধির এই গানটি আজও তার সবচেয়ে প্রিয়। গানটিতে নক্ষত্রের আলোর রূপক ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে যে প্রতিটি মানুষ নিজস্ব ঢঙে উজ্জ্বল। 

তিনি এএফপি’কে আরও বলেন, গানটির বিশেষত্ব হলো, ওই আলো মানুষের কোনো অর্জনের পুরস্কার নয়, বরং এটি আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

ইয়ংজু বলেন, ‘গানটি মনে করিয়ে দেয় যে অন্ধকার ও কঠিন মুহূর্তে আপনাকে আরও ভালো হওয়ার জন্য আলাদা করে চেষ্টা করতে হবে না— আপনি যেমন আছেন, তেমনভাবেই আপনি উজ্জ্বল।’

‘ব্ল্যাক সোয়ান’
গ্রিসের ৪৮ বছর বয়সী লুকিয়া কিরাতজোগলু জানান, ২০২০ সালের এই গানটি জীবনের উদ্দেশ্য ও অনুপ্রেরণা খুঁজে পেতে তাকে সাহায্য করেছে। আত্মবিশ্লেষণমূলক এই গানে মূলত শিল্পী হিসেবে বিটিএস সদস্যদের সংগীতের প্রতি সৃজনশীল আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

কিরাতজোগলু জানান, যখন তিনি প্রথম এই ব্যান্ডের খোঁজ পান, তখন তিনি বেশ ‘বিষণ্ন ও অন্ধকার সময়ের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, তাদের নিজেদের লড়াই ও অনুপ্রেরণা হারানোর কথা শুনে আমি তাদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে মিশে যেতে পেরেছি। বিটিএস সদস্যরাও আমাদের মতো মানুষ যারা প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, অথচ তারাও এত ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম।

কিরাতজোগলু বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে এবং তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’