বাসস
  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০

আইএমএফের ঋণ পেতে জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ করতে সম্মত বলিভিয়া

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ১৯০ কোটি ডলারের ঋণ পেতে ২০২৭ সালের মধ্যে সব ধরনের জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলিভিয়া। দেশটির সরকার বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত জুলাইয়ে আইএমএফ জানায়, বলিভিয়ার মধ্য-ডানপন্থী নতুন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের সরকারের সঙ্গে ৩৬ মাস মেয়াদি ঋণ দেওয়ার বিষয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার বলিভিয়া সরকার ঋণচুক্তির শর্তগুলো প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—জ্বালানি তেলের ওপর দেওয়া বড় ধরনের ভর্তুকি পুরোপুরি বন্ধ করা। এই ভর্তুকির কারণে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না।

গত বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট পাজ জ্বালানি ভর্তুকি তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে তিনি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।

তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে সরকার আবারও ভর্তুকির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করে।

আইএমএফের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সরকার আর কৃত্রিমভাবে কম দামে জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে না। তবে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তা কমাতে সরকার কিছু সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়াবে।

চুক্তিটি কার্যকর করতে এখনো বলিভিয়ার কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান মোরালেস সাংবাদিকদের বলেন, বলিভিয়া আইএমএফের নির্দেশে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং আগের বামপন্থী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট’ থেকে বেরিয়ে আসতে যা করা প্রয়োজন, সরকার সেটিই করছে।

সম্প্রতি বড় ভোক্তা—বিশেষ করে কৃষকদের জন্য ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করেছে পাজ সরকার। সরকারের যুক্তি, সীমান্ত পেরিয়ে জ্বালানি পাচারের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছিল।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে মে ও জুনে যে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে দেশের বিভিন্ন অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল, সেরকম বড় আকারের আন্দোলন এখনো শুরু হয়নি।