শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের পতন হয়েছে। বছরের শুরু থেকে প্রযুক্তি খাতের নজিরবিহীন উত্থানের পর এবার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে টোকিও ও তাইপেইর বাজার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যায়ন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। পরবর্তী বড় সম্ভাবনাময় খাতে অংশ নিতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে অর্থ ঢেলেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোও বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে।
হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে গত কয়েক মাসে শেয়ারের মূল্যায়ন অতিরিক্ত বেড়ে গেছে কিনা এবং কোম্পানিগুলো প্রকৃতপক্ষে কবে বিনিয়োগের সুফল পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এআই-নির্ভর বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বড় ধাক্কা খেয়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে।
এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সূচকটি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছিল। তবে জুনে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর থেকে এর মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি ছুটি থাকায় প্রযুক্তি খাতনির্ভর টোকিও ও তাইপেইর বাজারে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
জাপানের নিক্কেই সূচক একপর্যায়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভানটেস্ট এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ জায়ান্ট সফটব্যাংকের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।
চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়ার শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ ধসে পড়ে। এর ফলে গত মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে বাজার মূলধনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।
তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও ৪ শতাংশ কমেছে। চিপ নির্মাতা টিএসএমসির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। একদিন আগে কোম্পানিটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার ঘোষণা দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে আরও ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানায়।
এ ছাড়া হংকং, সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও সিডনির শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে।
ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘মনে হচ্ছে, কয়েক মাসের প্রায় বিরতিহীন উত্থানের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ঊর্ধ্বগতির গতি কমতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আগের দ্রুত উত্থানের পর কিছুটা স্থিতিশীলতা আসাটা স্বাভাবিক ছিল। তবে এআই অবকাঠামোতে যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত মুনাফা দিতে পারবে কি না-সে বিষয়ে অনেক বিনিয়োগকারীই এখন প্রশ্ন তুলছেন।
তবে তিনি আরও বলেন, এই বিক্রি ‘শুধু বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের সময়কালও হতে পারে।’
তিনি লেখেন, ‘অনেক বিনিয়োগকারী উচ্চ মূল্যায়ন পাওয়া সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে তুলনামূলক আকর্ষণীয় মূল্যায়ন ও স্থিতিশীল আয়ের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে পারেন।’
এশিয়ার এই নেতিবাচক প্রবণতার আগে নিউইয়র্কের বাজারেও দরপতন হয়েছিল। এনভিডিয়া ও অ্যামাজনের শেয়ারের বড় পতনে নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এদিকে বিক্রয় প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকেও শ্লথ থাকবে বলে সতর্ক করার পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি পড়ে যায়।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘এআই-নির্ভর বিনিয়োগ একই শিক্ষা বারবার কঠিনভাবেই পাচ্ছে। কোনো শেয়ারের দাম যখন খাড়া ঊর্ধ্বমুখী হয়, তখন তা নামার জন্য খারাপ খবরের প্রয়োজন হয় না। ক্রেতারা শুধু যে কোনো দামে কিনতে আগ্রহ হারালেই যথেষ্ট।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। এই উত্তেজনায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও অনেক কমে গেছে।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতেও বাধ্য করতে পারে।