বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫২
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৭

এলডিসি-উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন : আইসিসিবি সভাপতি

ছবি; সংগৃহীত

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে বাংলাদেশকে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিসিবির ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে বক্তব্যকালে মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুর্বল শিল্প কার্যক্রম, কঠোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি, জ্বালানি সংকট এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে রপ্তানি আয় এবং ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক খাত ও অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি ও সেবা খাত অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

আইএমএফের পূর্বাভাসের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। মধ্যমেয়াদে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সম্প্রসারিত অবকাঠামো, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং উদ্যোক্তাভিত্তি দেশের প্রধান শক্তি। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় খাত।

তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ও আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এলডিসি-উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করারও আহ্বান জানান তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইসিসিবি সভাপতি ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে একটি আধুনিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, পরিবহন ব্যয় কমবে, রপ্তানি বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, বাড়তে থাকা সংরক্ষণবাদ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করছে।

এ কারণে বাংলাদেশকে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত সুশাসন এবং সরকার-বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমান চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এশিয়ার অন্যতম সফল অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারবে।

আইসিসিবির বার্ষিক কাউন্সিলে সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী নেতা এবং শীর্ষ আর্থিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।