বাসস
  ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৪

গত অর্থবছরে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৫ শতাংশের বেশি

ঢাকা, ৫ জুলাই (বাসস) : গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে। এ সময় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন, লেনদেনের মূল্য ও লেনদেনের পরিমাণ ও সব প্রধান সূচকেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে ডিএসই-এর সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশের বেশি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএসই-এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট, যা বছর শেষে বেড়ে ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট এবং সর্বনিম্ন ছিল ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।

একই সময়ে, ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট থেকে ২ হাজার ১৭৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১০ দশমিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬০ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট থেকে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ১৩ পয়েন্টে পৌঁছায়।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছর শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সব ধরনের সিকিউরিটিজের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৭১ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন বেড়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮২ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বাজার কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বাজার মূলধনের ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশই ইক্যুইটি খাতের দখলে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের অংশ ৪৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩৯ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৭২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ৪৭২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বছরে সর্বোচ্চ একদিনে ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকার এবং সর্বনিম্ন ২৬৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

এ সময় মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ ৫৯ হাজার ৩৩১ কোটি ৪৮ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট।

ব্লক মার্কেটে ৭ হাজার ১২৯ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশই ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

মোবাইল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থবছরে মোবাইলের মাধ্যমে মোট ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার  টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

এসএমই প্ল্যাটফর্মে ১ হাজার ৮০৯ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। তবে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) লেনদেন ৭৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

অর্থবছর শেষে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৬, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৯ দশমিক ৩৪। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ৯৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

তবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে।

ডিএসই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে মোট তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ছিল ৬৪০টি। এর মধ্যে ৩৬০টি কোম্পানি, ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ৮টি ডিবেঞ্চার, ২২০টি সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং ১৬টি করপোরেট বন্ড রয়েছে।