শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের (বিএইচসি) যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার ইপিবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক সমিতি, চেম্বার ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা ডিসিটিএসের সুবিধা ব্যবহারের হার বৃদ্ধি, বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রিজিওনাল ট্রেড ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজর এলি পার্কার ডিসিটিএসের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রভাব, ডিসিটিএসের সাম্প্রতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ এবং স্কিমটির ব্যবহার বাড়াতে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ তুলে ধরেন।
বৈঠকে ডিসিটিএস সম্পর্কে সচেতনতা ও ব্যবহার বৃদ্ধি, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ, যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা এবং তৈরি পোশাক খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ডিসিটিএসের আওতায় প্রাপ্ত অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইপিবি ও ব্রিটিশ হাইকমিশন আগামী মাসগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী জানান, ডিসিটিএস বিষয়ে রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বিস্তারিত তথ্যপুস্তিকা প্রকাশ করা হবে। এতে যোগ্যতার শর্ত, উৎপত্তি বিধি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ব্যবহারের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন, সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক সমিতি ও চেম্বারগুলোর সহযোগিতায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশব্যাপী তথ্য প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাক্রাফটের সভাপতিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।