বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৯:৩৭

পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল এ বৈঠক করেন। বৈঠকে তৈরি পোশাক ও টেকসই বস্ত্র খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের সামঞ্জস্য বিধানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে বিজিএমইএ সভাপতির পাশাপাশি বিটিএমইএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বিজিএমইএ পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা এবং কিংসলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাক খাতের নেতারা পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩’-এর কিছু প্রযুক্তিগত ও বাস্তবায়নগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তারা জানান, বিদ্যমান ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমান কালার প্যারামিটার অর্জন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত মানদ- নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।

জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডএলডি) বাস্তবায়নের বিষয়ে বিজিএমইএ পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমিক ও কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে পানি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন, জেডএলডি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভ্যাট ও শুল্ক ছাড় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের আওতায় বিশেষায়িত ‘জেডএলডি উইন্ডো’ চালুর দাবি জানানো হয়।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ‘মিরর টেস্টিং’ পদ্ধতি চালু এবং নিয়মিতভাবে পরিবেশগত মান বজায় রাখা কারখানার জন্য ঝুঁকি-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি ছাড়পত্র নবায়ন ব্যবস্থার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের জমির ব্যবহারসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে বন অধ্যাদেশ-২০২৬-এর আওতায় দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন, চরম আবহাওয়ার কারণে পরিবেশগত সূচকের ওঠানামার সহনশীল সীমা নির্ধারণ এবং বাহ্যিক দূষণ উৎস বিবেচনায় নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বায়ুমান মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, শিল্পের ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্য উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পোশাক শিল্পের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে খাতটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।