শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : কর্পোরেট নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘উইমেন অন বোর্ডস’ শীর্ষক একটি অনবোর্ডিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যৌথভাবে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় এ সেশনের আয়োজন করে। গত ১৭ মে ঢাকার নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসিসিএ এবং বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় নারী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পরিচালনা পর্ষদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি সময়ের দাবি। বোর্ডে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি কর্পোরেট বোর্ডে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে দক্ষ নারী পেশাজীবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও ডেটাবেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পেশাগত ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন, সাহসিকতার সঙ্গে মতামত প্রকাশ এবং প্রশ্ন করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় কর্পোরেট সুশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ সেশন পরিচালনা করেন খ্যাতনামা পেশাজীবী ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা।
আইএফসি সাউথ এশিয়ার কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজরি লোপা রহমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা, পরিচালকদের দায়িত্ব ও আইনগত দায়বদ্ধতা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সুশাসন কাঠামো, সাসটেইনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ড, ইএসজি চর্চা এবং কার্যকর বোর্ড পরিচালনা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আর্থিক সুশাসন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের কাউন্সিল সদস্য, জেন্ডার ইনক্লুশন অ্যান্ড লিডারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র স্বতন্ত্র পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
‘উইমেন অন বোর্ডস’ উদ্যোগটি আইএফসি’র ইন্টিগ্রেটেড এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রকল্পের অংশ। ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতে সুশাসন চর্চা জোরদার করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ডিএসই’র প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. আবিদ হোসেন খান বলেন, দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো দ্রুত অগ্রসর হলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের সফল নেতৃত্ব ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন বোর্ডরুমে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে তাদের মেধা ও নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।