বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫

কালের সাক্ষী গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদ

গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদ । ছবি: বাসস

লিয়াকত হোসেন লিংকন

গোপালগঞ্জ, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোপালগঞ্জের কেন্দ্রীয় কোর্ট মসজিদ। এটি জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র কোর্ট পাড়ায় অবস্থিত। মসজিদটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।

প্রায় ৭৭ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে মসজিদটি জেলার অন্যতম ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন এই কোর্ট মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

১৯৪৭ সালে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অর্থায়নে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী গোলাম আহাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করেন। মসজিদটি বর্তমান জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

দুই তলাবিশিষ্ট এই মসজিদটিতে এক সাথে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে মসজিদটি বিশেষভাবে নজরকাড়া। এতে একটি সুউচ্চ মিনার ও পাঁচটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ রয়েছে। মিনার ও গম্বুজগুলোতে সুন্দর কারুকার্যময় নকশা রয়েছে। সাদা মার্বেল পাথরের কারুকার্য ও সাদা রঙের আবরণ মসজিদটিকে দিয়েছে শান্ত ও স্নিগ্ধ এক আবহ। ভেতরে ঝুলানো সুবিশাল ঝাড়বাতি মসজিদের আভিজাত্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। প্রাচীন নির্মাণশৈলী মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও নয়নারাভিরাম করে তুলেছে। যা প্রাচীনকালের স্থাপত্য শিল্পের সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে। এটি জেলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যা খুব সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা প্রবীণ মুসল্লি আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশভাগের সময় থেকেই এই মসজিদ আমাদের শহরের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। ছোটবেলা থেকে এর মিনার ও গম্বুজ আমাদের মুগ্ধ করে আসছে। তবে বর্তমানে দেয়ালের কিছু অংশের আস্তর খসে পড়ছে, যা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিয়মিত মুসল্লি আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে জুমার দিনে মসজিদে জায়গা কিছুটা সংকট দেখা যায়। মূল স্থাপত্যশৈলী অক্ষুন্ন রেখে সংস্কার ও আধুনিকায়ন জরুরী।’

প্রতিদিন এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন অসংখ্য মুসল্লি। পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও দর্শনার্থীরাও আসেন মসজিদের স্থাপত্য ও ইতিহাস দেখতে।